নিউজিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক গণনায় ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থি ন্যাশনাল পার্টি এগিয়ে রয়েছে। তবে প্রধান বিরোধী দল মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির সঙ্গে দলটির ভোটের ব্যবধান খুব বেশি নয়। প্রাথমিক আসনভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, ন্যাশনালপার্টির নেতৃত্বাধীন বর্তমান জোট সরকার ক্ষমতায় থাকতে প্রয়োজনীয় আসন পেতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৩০ দশমিক ৯০ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে লেবার পার্টি পেয়েছে ২৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
নির্বাচনে দুর্বল অর্থনীতি এবং প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতি ভোটারদের হতাশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রায় ৫০ বছর পর কোনও সরকারকে এক মেয়াদেই ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে লেবারসহ বামপন্থি দলগুলো।
লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা কিয়েরান ম্যাকনাল্টি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম টিভিএনজেডকে বলেন, সত্যি বলতে, ন্যাশনাল পার্টির ভোট আমরা যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম, তার চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষিত ভোটের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় এ ফলাফল নিয়ে বেশি কিছু বলতে চান না তিনি।
সরকার গঠনে লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ
নির্বাচন কমিশন রাত ১০টার মধ্যে অর্ধেক ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক ফল প্রকাশের আশা করছে। তবে ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ এবং জোট গঠনের আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনী ব্যবস্থায় জোট সরকার গঠন স্বাভাবিক ঘটনা। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি হওয়ায় ছোট দলগুলোর এক বা একাধিক দল নতুন সরকারে অংশ নিতে পারে।
১৯৯৬ সালে দেশটি মিশ্র সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (এমএমপি) পদ্ধতি চালু করে। এ ব্যবস্থায় ভোটাররা একটি ভোট দেন রাজনৈতিক দলের জন্য, অন্যটি নিজ এলাকার প্রার্থীর জন্য। দেশটির পার্লামেন্টে ৭১টি আসন নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিদের জন্য এবং অন্তত ৪৯টি আসন দলীয় ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। সরকার গঠনের জন্য কোনও দল বা জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হয়।
বিদেশে অবস্থানরত ভোটার এবং নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ভোটসহ বিশেষ ভোটগুলো ২৭ নভেম্বরের আগে গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। ঐতিহাসিকভাবে এসব বিশেষ ভোটে বামপন্থি দলগুলো বেশি সমর্থন পেয়ে থাকে। ফলে গণনা শেষে ডানপন্থি দলগুলোর সমর্থন কমে যাওয়ার নজির রয়েছে।
দীর্ঘ অর্থনৈতিক মন্দা থেকে নিউজিল্যান্ড ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো মন্থর, চাপে রয়েছে পরিবারের ব্যয় এবং বাড়ছে বেকারত্ব। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।