মিয়ানমারে পৌঁছেছে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি মিয়ানমারে পৌঁছেছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের পরিস্থিতি অনুকূল হয়েছি কিনা তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন তারা। ইতোমধ্যে তারা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের বক্তব্য শুনেছেন। স্টার ট্রিবিউন লিখেছে, উচ্চ পর্যায়ের ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল মিন অং হাইংয়ের সঙ্গে দেখা করবেন। দুই দিনের ওই সফরে তারা রোহিঙ্গাদের নিবাস রাখাইনেও যাবেন।5ae6f2569b820.image

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরেগুলোতে এখন প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে আছে আরও প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ দেবেন। অন্যদিকে সু চির ঘনিষ্ঠরা চাইবেন জাতিসংঘের সংস্থাগুলো যেন একটি চুক্তির আওতায় মিয়ানমারে কাজ শুরু করে। তাদের প্রত্যাশা, সু চি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বোঝাতে পারবেন, চুক্তিটি হলে তা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। আগে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থায়ী প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি, যে পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারেরই।

বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, ‘আলোচনায় শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ও প্রত্যাবাসিতদের পুনর্বাসনের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হবে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের শরণার্থী অভ্যর্থনা কেন্দ্র ও দক্ষিণ রাখাইনের গ্রামগুলো পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হবে।

স্টার ট্রিবিউন লিখেছে, সহিংসতার প্রমাণ সংগ্রহের কাজে দেশটিতে ঢুকতে চাওয়া জাতিসংঘের বিশেষ তদন্ত দলকে সুযোগ দিতে অনিচ্ছুক ছিল মিয়ানমার। শেষ পর্যন্ত গত মার্চে তদন্তকারীদের ওই দলটি মিয়ানমারে ঢোকার সুযোগ পায়। তদন্তকারীরা বলেছেন, তারা কাচিন, শান ও রোহিঙ্গাদের ওপর এমন সহিংসতা হওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন যেগুলো আন্তর্জাতিক আইনে বিচার্য।

বর্তমানে মিয়ানমারে থাকা জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি সেখানে যাওয়ার আগে যখন বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে গিয়েছিলেন, তখন হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী সেখানে উপস্থিত হন। তাদের অনেকের হাতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।’