দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ১৩২ জন সংসদ সদস্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিচার দাবি করেছেন। এক বছর আগে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার পর এটাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ার ফর হিউম্যান রাইটস (এপিএইচআর) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই বিচার চাওয়া হয়েছে। তারা রাখাইন রাজ্যে খুনে অভিযান পরিচালনার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
১৩২ জন এমপির পক্ষ থেকে এপিএইচআর সদস্য ও মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিক চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, মিয়ানমার তদন্ত করতে অনিচ্ছুক ও অক্ষম স্পষ্ট হওয়ার কারণে আমরা এখন এমন একটি পর্যায়ে, যেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ প্রয়োজন।
চার্লস সান্তিয়াগো আরও বলেন, আমি নির্বাচিত ১৩১ জন এমপির সঙ্গে একমত এবং অবিলম্বে আইসিসিতে মিয়ানমারের বিচারের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। মিয়ানমারের যারা নৃশংস অপরাধে জড়িত তাদের বিচার হওয়া উচিত। তাদের মুক্ত থাকতে দেওয়া যায় না ভবিষ্যতে আবারও এমন অপরাধ করার জন্য।
আসিয়ান এমপিদের এই ঐক্যবদ্ধ দাবি রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এলো। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। হত্যা করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা গ্রাম এবং নারীরা যৌন হামলা ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ আখ্যায়িত করেছে। যদিও মিয়ানমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হওয়া এসব রোহিঙ্গাকে ফেরাতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমার চুক্তিস্বাক্ষর করলেও এখনও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের সরকারের সংস্থা আসিয়ান। গত এক বছর রোহিঙ্গা সংকটে সংস্থাটি চোখ বন্ধ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ভিড় করলেও এই ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া থেকে দূরে ছিল আসিয়ান।
এপিএইচআরের বোর্ড মেম্বার ও ইন্দোনেশিয়ার সংসদ সদস্য এভা কুমা সুন্দরি জানান, আসিয়ান দেশগুলোর অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের নীতি ভাঙা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখন। রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায় বিচারের ইস্যুটি আঞ্চলিক রাজনীতির গণ্ডি অতিক্রম করেছে। এটা পুরো মানবতাকে উদ্বিগ্ন করেছে। একেবারে দায়মুক্তিসহ আমাদের কোনও দেশকে এমন নৃশংসতা চালানোর অনুমতি দিতে পারি না।
বিবৃতিতে ১৩২ জন এমপির নাম থাকলেও তারা মূলত ৫টি দেশের। দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনের টিমোর লেস্তে এবং সিঙ্গাপুর। এতে প্রমাণিত হয়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কথা বলতে এখনও এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ অনিচ্ছুক।
জুনে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট আইসিসি প্রসিকিউটরদের কাছে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য পাঠায়। আইসিসির তদন্তের জন্য শুনানির নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রসিকিউটর ফাতৌ বেনসৌদা।