সন্ত্রাসবাদ বন্ধে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিন, ইসরায়েলি নৃশংসতা থামান: মাহাথির

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে এবং ইসরায়েলি নৃশংসতা থামানো গেলেই কেবল সন্ত্রাসবাদ বন্ধের সুযোগ তৈরি হবে। শনিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা বলেছেন।

pm_unga_1538150409

মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেকড় চিহ্নিত করে তা উপড়ে ফেলে হৃদয় ও মন জয় করা না গেলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধ শেষ হবে না।  এই যুদ্ধের শেকড় কোথায়? ১৯৪৮ সালে, ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল। ফিলিস্তিনিরা হত্যাযজ্ঞের শিকার এবং তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ফিলিস্তিনিরা সহানুভূতিশীল প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় প্রচলিত ধারায় লড়াই করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলের মিত্র রাষ্ট্রগুলো নিশ্চিত করে তা যেন ব্যর্থ হয়। ফিলিস্তিনিদের ভূমি আরও বেশি দখল করা হয়।

মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, হতাশ ও ক্ষুব্ধ, প্রচলিত লড়াই চালিয়ে যেতে না পারার কারণে ফিলিস্তিনিরা যে পথ বেছে নিয়েছে আমরা সেটাকে সন্ত্রাসবাদ বলছি। কোনও ব্যক্তি ও দেশ এটার কারণে নিরাপদ নয়।

মাহাথির আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বড় ভাই সব দেখছেন। কিন্তু সন্ত্রাস চলছেই।

ইসরায়েলের নৃশংসতা থামাতে বিশ্ব কিছুই করেনি বলে উল্লেখ করেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসরায়েল যখন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ওষুধ, খাবার ও নির্মাণ সামগ্রী বাহনকারী জাহাজ জব্দ করে তখন বিশ্বের কিছুই যায় আসে না। ফিলিস্তিনিরা যে অকার্যকর রকেট ছোড়ে তাতে কেউ আহত হয় না। ইসরায়েল ভয়াবহ পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য ভবনে রকেট ও বোমা হামলা চালায়, নিরাপরাধ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে। এমনকি স্কুলের শিশু ও হাসপাতালের রোগীরাও বাদ যায় না।

মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, হাস্যকর হলো বিশ্ব ইসরায়েলকে বরং পুরস্কৃত করেছে জেরুজালেমকে দেশটির রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে। উসকে দিয়েছে ফিলিস্তিনিদের। আমরা যেটাকে সন্ত্রাসবাদ বলছি তা হলো ফিলিস্তিনি ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের ক্ষোভ ও হতাশার যেটাকে অবলম্বন করেছে। বিকলাঙ্গ ও নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বোমা নিক্ষেপ বা রকেট ছোড়াও মানুষকে আতঙ্কিত করে। এটাও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদ ঘৃণা করি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। কিন্তু আমরা মনে করি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার একমাত্র উপায় হলো কারণটাই নির্মূল করা। তিনি আরও বলেন, আসুন ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে দেই। আসুন সেখানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেই। আসুন সেখানে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করি। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সন্ত্রাসবাদকে থামাবে না।

একই ভাষণে মাহাথির মোহাম্মদ মিয়ানমার সরকার ও দেশটির নেত্রী অং সান সু চি’রও সমালোচনা করেন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার জন্য।