ভূমিকম্প ও সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার পালু শহরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৫৮ জনে। শুক্রবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, পালু শহরের বালারোয়া ও পেটোবো তরল হয়ে যাওয়া মাটির নিচে সহস্রাধিক মানুষ সমাহিত হয়ে থাকতে পারে। ওই এলাকাটি তিন মিটার কাদা কবলিত হয়ে পড়েছিল। এছাড়া শহরটির মার্কারি হোটেলের ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষের সন্ধান পাওয়ার আশা ত্যাগ করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র সুতোপে পুরয়ো নুগ্রহো জানান, মাটি তরলে পরিণত হওয়ার ফলে বালারোয়া ও পেটোবো শহরে হয়ত এক হাজারের বেশি মানুষ সমাহিত হয়েছেন। এখানে তিন মিটার গভীর কাদা ছড়িয়ে পড়েছিল।
মুখপাত্র আরও জানান, এলাকা দুটিতে উদ্ধার তৎপরতা বাধা গ্রস্ত হচ্ছে। কারণ সেখানকার মাটি এখনও ভেজা। ফলে উদ্ধার সরঞ্জাম পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
সংস্থাটি জানায়, পেটেবোতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং বালারোয়াতে ৪৮ জন। এখনও অনুসন্ধান চলছে। বালারোয়াতে ১ হাজার ৭০০ বাড়ি চাপা পড়েছে। ভূমিকম্পের ফলে মাটি গলে তরলে পরিণত হওয়ায় এই চাপা পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ১৫৫৮ জন নিহতের কথা জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ শিশু ছিল। এসব শিশু স্থানীয় খ্রিস্টান বাইবেল স্টাডি ক্যাম্পে ছিল। মাটি তরলে পরিণত হওয়ার কারণে এই ক্যাম্পটি আক্রান্ত হয়।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতিসহ ফরাসি উদ্ধার টিম জানিয়েছে, সুলাওয়েসির মার্কারি হোটেলের ধ্বংসস্তূপে কোনও জীবিত মানুষের সন্ধান তারা পায়নি। বৃহস্পতিবার দলটি এই তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার দলটি হোটেল ছেড়ে অন্যত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, কয়েকদিনের ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে অবশেষে ইন্দোনেশিয়ার সুলাবেসি প্রদেশের দুর্গত এলাকায় আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে। ইন্দোনেশিয়ার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণকারী বিভাগের কর্মীরা সড়কগুলো পরিষ্কার করে দেওয়ার পর এবং বিদ্যুৎ সংযোগ আবারও সচল হওয়ায় ত্রাণবহর পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে।
শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বড় হতে থাকে মৃত্যুর মিছিল। এক সপ্তাহ পরও চলছে উদ্ধার কার্যক্রম। আন্তর্জাতিকভাবে ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো যাচ্ছিলো না। ভূমিকম্পে সুলাবেসির বিমানবন্দরটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য দুর্গতরা মরিয়া হয়ে উঠেছিলো। ক্ষুধার যাতনায় দোকানপাটে লুটপাট শুরু করেছিল তারা।