ইন্দোনেশিয়ায় বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে গিয়ে ডুবুরির মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারের বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও বিমানে থাকা মৃতদের দেহাবশেষ খুঁজতে নিয়োজিত একজন ডুবুরি শুক্রবার মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় নিহত ডুবুরি সিয়ারুল আন্তো (৪৮) উদ্ধার তৎপরতাতেই নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া, পরিবারের পক্ষ থেকেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাকে কবর দেওয়ার আর্জি জানানো হয়।উদ্ধার তৎপরতা

12805717_990009291083655_1982506218148457304_nসোমবার (২৯ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ায় ১৮৯ জন আরোহী নিয়ে লায়ন এয়ারের বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়। জেটি-৬১০ ফ্লাইটটি জাকার্তা বিমানবন্দর থেকে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ শহর পাঙকাল পিনাঙয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মাথায় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই এলাকার আশেপাশে যারা নৌকায় ছিলেন তারা আকাশ থেকে বিমানটিকে সাগরে পড়তে দেখেছেন। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, সমুদ্রের ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা।
আন্তো ইন্দোনেশিয়ার একজন জ্যেষ্ঠ ডুবুরি। ২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় এয়ার এশিয়ার একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে যে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছিল তাতে তিনি ডুবুরি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই ঘটনাতে বিধ্বস্ত বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ধ্বংসাবশেষ ও নিহত ১৮৯ জনের দেহাবশেষ উদ্ধারে ডুবুরিরা বড় ভূমিকা রাখছেন। ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধার তৎপরতা চালানো কর্তৃপক্ষ ‘বাসারনাসের’ প্রধান ‘নায়ক’ আখ্যায়িত করে আন্তোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে সাগর খুব একটা গভীর নয়; ৯৮ ফুটের মতো। কিন্তু সেখানে স্রোত অত্যন্ত প্রবল। তাছাড়া কাছাকাছি থাকা পাইপলাইনের কারণেও ডুবুরিদের উদ্ধার তৎপরতা চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। ডুবুরিরা এখন পর্যন্ত ৭৩ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন। এদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনের দেহ অবিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষগুলোর মধ্যে মাত্র চারটির পরিচয় নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।