আফগানিস্তানে তিন নারী গণমাধ্যমকর্মীকে হত্যা

আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরে তিন নারী গণমাধ্যমকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার পৃথক দুই হামলায় তারা নিহত হন। হামলায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এরইমধ্যে এক বন্দুকধারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, ওই সন্দেহভাজন হামলাকারী তালেবানের সঙ্গে জড়িত। তবে তালেবানের পক্ষ থেকে হামলার দায় অস্বীকার করা হয়েছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তানজুড়ে সাংবাদিক, সমাজকর্মী, সরকারি কর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে। তার মধ্যে অনেকেই নারী। ভয়ের পরিবেশ তৈরির জন্য এই কাজ করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন হামলায় নিহত তিন নারী হলেন মুরশাল ওয়াহিদি, শাহনাজ ও সাদিয়া। বয়স ১৮-২০ বছরের মধ্যে। তিন নারীই জালালাবাদের বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনিকাসে ডাবিং বিভাগে কাজ করতেন। চ্যানেলের পরিচালক জালমাই লতিফ জানিয়েছেন, ওই কর্মীরা কাজ সেরে টিভি স্টেশন থেকে বের হওয়ার পর ওই ঘটনা ঘটে। তিনি বলেছেন, তিনজনই অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।

বাড়ি ফেরার পথে মুরশাল ওয়াহিদির ওপর হামলা চালায় বন্দুকধারী। তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। শাহনাজ ও সাদিয়াও বাড়ি ফেরার পথে আলাদা একটি হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। এছাড়া গুলিবিদ্ধ আরেক নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

নানগারহার পুলিশ প্রধান জুমা গুল হেমাত ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, পুলিশ মূল সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এবং অন্য হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে। হেমাত বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আমরা গ্রেফতার করি। সে পুলিশের কাছে দোষ স্বীকার করেছে। জানিয়েছে সে তালেবান সদস্য।’

তবে তালেবান জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তারা কোনোভাবেই যুক্ত নয়। কোনও গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। নানগারহারে আইএসও সক্রিয়। এই ঘটনার পর তারা কিছু বলেনি। তবে গত ডিসেম্বরে ওই চ্যানেলের একজন নারী কর্মীকে আইএসের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন হত্যা করেছিল। চ্যানেল এনিকাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে ১০ জন নারী কাজ করতেন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।