জাপানে সমলিঙ্গের বিয়েকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে সেদেশের একটি জেলা আদালত। এ ধরনের বিয়ে না মেনে নেওয়াকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি। ছয় সমকামীর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সাপোরো জেলা আদালতে এ রায় দেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রটার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জি সেভেন দেশগুলির মধ্যে জাপানই একমাত্র দেশ, যেখানে সমলিঙ্গের বিয়ে পুরোপুরি স্বীকৃত নয়। জাপানের সংবিধানে বলা হয়েছে, উভয়লিঙ্গের সম্মতিতে বিয়ে হবে। যেহেতু উভয়লিঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তাই সমলিঙ্গের বিয়ে সেখানে স্বীকৃতি পায় না। এখন জাপানে যে ব্যবস্থা চালু আছে তাতে সমলিঙ্গে বিয়ে হলে, সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন বিবাহিতরা। তাদের জীবনসঙ্গীর কোনো বাচ্চা থাকলে, তারাও সম্পত্তির অধিকার পায় না। তবে পৌরসভাগুলো পার্টনারশিপ সার্টিফিকেট দেয়। তাতে সমলিঙ্গে বিয়ে হওয়া জুটির বাড়ি ভাড়া করা বা চিকিৎসার সুবিধা পেতে কোনও অসুবিধা হয় না। কিন্তু তারা এখনও অন্যদের মতো পুরো আইনি অধিকার পান না। অনেক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত।
এসবের অবসান চেয়ে এবং সমলিঙ্গের বিয়েকে বৈধতা দিতে সরকারকে বাধ্য করার জন্য ২০১৯ সালে ভালোবাসা দিবসে ১৩ সমকামী জুটি বিভিন্ন আদালতে মামলা করেন। বুধবার (১৭ মার্চ) প্রথম মামলার রায় দিয়েছে সাপোরোর আদালত। ছয়জন সমকামী এ মামলাটি করেছিলেন। এই রায়ে তারা উল্লসিত বলে জানিয়েছেন। আবেদনকারীরা আদালতে ক্ষতিপূরণও দাবি করেছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, আইনসঙ্গতভাবে বিয়ে করতে না পেরে তারা যে মানসিক বেদনার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, তার জন্য সরকারকে প্রত্যেককে দশ লাখ ইয়েন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আদালত অবশ্য এই দাবি মানেনি।
তবে মামলাকারীরা জানিয়েছেন, তাদের বিয়ে করতে না দেওয়ার বিষয়টিকে আদালত অসাংবিধানিক বলেছে, এটাই তাদের বড় জয়।
জাপান সরকারের দাবি, সংবিধানে সমলিঙ্গ বিয়েকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু আইনজ্ঞদের মতে, দুইজনের সম্মতিতে বিয়ের কথা সংবিধানে বলা হয়েছে। তাই সমলিঙ্গের দুই জন যদি বিয়ে করতে সম্মত হন, তা হলে তাদেরও বাধা দেওয়া উচিত নয়।
জাপানের অন্যান্য জায়গায় এই ধরনের চারটি মামলা চলছে। বুধবার সাপোরোর আদালতে দেওয়া এই রায় সেগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।