অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রায় দুই হাজার ডোজ নিয়ে সোমবার (১৫ মার্চ) নেপালে প্রবেশ করেছেন বাহরাইনের রাজপুত্র মোহাম্মদ হামাদ মোহাম্মদ আল-খলিফা। বাহরাইনের দূতাবাস বলেছে, গোর্খা জেলার গ্রামবাসীদের অনুদান হিসেবে দিতে রাজপুত্র ওইসব টিকা নিয়ে গেছেন। তবে নেপাল সরকার বলছে, টিকা নিয়ে প্রবেশ করার ব্যাপারে আগে থেকে অনুমতি নেননি এ রাজপুত্র। অনুমতি না নিয়ে তিনি কীভাবে এসব টিকা নিয়ে ঢুকতে পারলেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
নেপালে কোনও ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে আগে থেকে অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সে অনুমতি না নিয়েই সোমবার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে নেপালে প্রবেশ করতে সক্ষম হন বাহরাইনি রাজপুত্র আল-খলিফা।
নেপালের ওষুধ প্রশাসন বিভাগ বলেছে, এসব টিকা আনার ঘটনায় তারা তদন্ত শুরু করেছে। এ বিভাগের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার বিবিসি নেপালিকে বলেন, ‘এ টিকা কীভাবে নেপালে ঢুকল, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করেছি আমরা। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ওষুধ প্রশাসন বিভাগ এসব ভ্যাকসিন আমদানির ব্যাপারে জানে না। আমাদেরকে বলা হয়েছে যে ওই প্রতিনিধি দলটি গতকাল সন্ধ্যায় পৌছেছে। আমরা শুনেছি তারা দুই হাজার ভ্যাকসিন নিয়ে এসেছে। এ ইস্যুটি এখনও তদন্তাধীন আছে।’
প্রিন্স আল-খলিফার এ সফরের আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেভেন সামিটস ট্রেক। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র থানেশ্বর গুরাগেইন মঙ্গলবার হিমালয়ান টাইমস পত্রিকাকে বলেন, সাত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পর রাজপুত্র ও সফরসঙ্গীরা গোর্খা জেলার চুমনুরবি রুরাল মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় যাবেন। সামাগাউন গ্রামের বাসিন্দাদের অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার ওই ডোজগুলো অনুদান হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এরপর মাউন্ট এভারেস্ট পর্বতশৃঙ্গ আরোহন করবেন রাজপুত্র ও তার সঙ্গীরা।
নেপাল গত ২৭ জানুয়ারি থেকে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। অধিকতর ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে এখন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত টিকা দেওয়া হচ্ছে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষকে।
মুখপাত্র আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ওষুধ প্রশাসন এসব টিকা আনার বিষয়ে জানে না। গতকাল সন্ধ্যায় আসা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমরা শুনেছি, তাঁরা দুই হাজার ডোজ টিকা এনেছেন। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।’
উল্লেখ্য গত ২৭ জানুয়ারি থেকে নেপালে কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষরা আপাতত এ টিকা পাচ্ছেন।