পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনের ভোটার তালিকা থেকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নাম বাতিলের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একইসঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এ প্রতিদ্বন্দ্বীর মনোনয়ন বাতিলেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে। বুধবার (১৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে এই দাবি জানিয়েছে জোড়া-ফুল শিবির। তাদের অভিযোগ, হলফনামায় শুভেন্দু মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। নিজেকে নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবে উল্লেখ করলেও সরকারি নথি অনুযায়ী তিনি হলদিয়ার ভোটার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১২ মার্চ হলদিয়ার এসডিও দফতরে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই জানা যায় যে, হলদিয়ার বদলে নন্দীগ্রামের ভোটার হয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড় প্রাইমারি স্কুলে তার বুথ।
বুধবার কমিশনে সরকারি নথি তুলে ধরে প্রার্থী হলফনামায় দেওয়া শুভেন্দুর তথ্য ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, শুভেন্দু অধিকারী তার প্রার্থী মনোনয়নের হলফনামায় লিখেছেন তিনি ২১০ নম্বর নন্দীগ্রামের ৭৬ নং বুথের ভোটার। তার সিরিয়াল নম্বর ৬৬৯। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তিনি হলদিয়ারও ভোটার। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিত্ব আইন অনুসারে একই ব্যক্তি দু’জায়গার ভোটার হতে পারেন না। ওই চিঠিতেই নথি হিসাবে ভোটার লিস্টের দু’টি কপিও কমিশনে জমা দিয়েছে তৃণমূল। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি হলদিয়ার মহাপ্রভূরচকের, অন্যটি নন্দীগ্রাম প্রাথমিক স্কুলের। পাশাপাশি নন্দীগ্রামের শুভেন্দুর বাড়ির ঠিকানার বুথ অফিসার বিজলী গিরি রায়ের নোটও কমিশনে জমা দিয়েছে তৃণমূল। নন্দীগ্রামে মৃণাল বেড়ার বাড়ির ঠিকানায় ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। বুথ অফিসার বিজলী গিরি রায় তার নোটে জানিয়েছেন, গত ৬ মাসে শুভেন্দু অধিকারী নামের কোনও ব্যক্তিকে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় দেখেননি।
কমিশনে এসব তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম বাতিলের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মিথ্যাচারের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি মনোনয়নের সময় হলফনামায় সম্পূর্ণ নথি না দেওয়ার অভিযোগে নন্দীগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিলের দাবি তোলেন শুভেন্দু। মমতা তার বিরুদ্ধে চলা ৬টি ফৌজদারী মামলার কথা উল্লেখ করেননি বলে কমিশনে অভিযোগ করে গেরুয়া বাহিনী। এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই ‘মিথ্যাচারে’র অভিযোগ আনলো তৃণমূল।