ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: কুম্ভমেলাকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

সম্প্রতি করোনাভাইরাস প্রকোপের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে ভারতে। ক্রমাগত বাড়ছে দৈনিক আক্রান্তের হার। এমন অবস্থায় উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে আয়োজিত হতে যাওয়া কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। পুণ্যার্থীদের ভিড়ের জেরে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার (২১ মার্চ) এ নিয়ে সতর্ক করে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্য সরকারের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী ১ এপ্রিল থেকে ভারতে শুরু হচ্ছে কুম্ভমেলা। এবার এতে ১৫ কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। ধর্মীয় এ জমায়েত শুরুর আগেই সেখানকার করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে উত্তরাখণ্ডে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছিল। তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ জন তীর্থযাত্রী করোনা সংক্রামিত হচ্ছেন। আবার হরিদ্বারের স্থানীয়দের মধ্যে থেকেও ১০ থেকে ২০ জন করে কোভিড আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ উত্তরাখণ্ডের মুখ্যসচিবকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি মত দিয়েছেন, দৈনিক করোনা পরীক্ষার সংখ্যা যথেষ্ট নয়। বর্তমানে ভারতের ১২ টিরও বেশি রাজ্যে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্ট ১২ টি রাজ্য থেকেও তীর্থযাত্রীরা কুম্ভমেলার সময় হরিদ্বারে আসবেন বলেই ধারণা তার। সেক্ষেত্রে কুম্ভ মেলায় শাহী স্নানের পর হরিদ্বারের স্থানীয় মানুষজনের মধ্যেও করোনা ছড়িয়ে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা জানিয়েছেন তিনি।

উত্তরাখণ্ড রাজ্যের তরফে যদিও বলা হচ্ছে প্রতিদিন ৫০ হাজার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে এবং ৫ হাজার আরটিপিসিআর টেস্টও করা হচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে এই কোভিড পরীক্ষার হার যথেষ্ট নয়। তীর্থযাত্রীদের মধ্যে এবং স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে আরও বেশি করে দৈনিক করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, কুম্ভমেলা হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েতগুলোর একটি। সাধারণ কুম্ভমেলা প্রতি চার বছর অন্তর আয়োজিত হয়। প্রতি ছয় বছর অন্তর অর্ধকুম্ভ আয়োজিত হয়। প্রতি বারো বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভ আয়োজিত হয়। বারোটি পূর্ণকুম্ভ অর্থাৎ প্রতি ১৪৪ বছর অন্তর প্রয়াগে আয়োজিত হয় মহাকুম্ভ। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন গঙ্গায় এই স্নানের মধ্য দিয়ে তাদের ধুয়ে যায় এবং জন্ম ও মৃত্যুর চক্র থেকে তারা মুক্ত হন।