আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনে সমঝোতায় দেশটির কয়েকজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতার মিশলে নতুন ফ্রন্ট গঠিত হচ্ছে। এদের মধ্যে থাকছেন দুই জন আঞ্চলিক ও একাধিক অভিজ্ঞ আফগান নেতা। পরবর্তী সরকার গঠনে দলটির আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তালেবানের সঙ্গে দরকষাকষি করতে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশের একসময়ের ক্ষমতাধর গভর্নর আতা মোহাম্মদের সন্তান খালিদ নূর। প্রবীণ উজবেক নেতা আব্দুল রশিদ দোস্তম ও অন্যান্য নেতার সমন্বয়ে একই দলে ছিলেন তারা। কিছু দিন আগে তারাই তালেবান দখলের বিরোধিতা করে। আতা মোহাম্মদের ছেলে খালিদ নূর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে আলোচনায় বসতে পছন্দ করি। বিষয়টি এমন নয়, আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের সমস্যা একজনের মাধ্যমেই সমাধান হয়ে যাবে’।
তার মতে, জনসমর্থন রয়েছে এমন আফগান প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।
আতা নূর ও দোস্তম আফগানিস্তানের তুখোড় রাজনীতিবিদ। সম্প্রতি তালেবানের হাতে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরীফ-এর পতন ঘটলে দেশ ত্যাগ করেন এই দুই নেতা। এরপরই ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলে করে নেয় সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। এখন আলোচনায় রয়েছে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে গোষ্ঠীটি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সরকার গঠন করতে হলে সবার অংশগ্রহণ জরুরি। নয়তো টিকে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ হবে।
নূর বলেছেন, তালেবানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার বিরাট ঝুঁকি থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে অনেকে।
'কাতারে সাবেক আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের দীর্ঘদিনের বৈঠকে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন আতার ছেলে এই নূর। আত্মসমর্পণের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ প্রশ্নের বাইরে’।
আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ৩৩টিই এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। তবে রাজধানী কাবুল থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি উপত্যকা পাঞ্জশিরে তাদের যোদ্ধারা এখনও প্রবেশ করতে পারেনি। দেশটিতে এখন এটিই একমাত্র এলাকা, যেখানে তালেবান যোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে।
এখানে অবস্থান নিয়েছেন উৎখাত হওয়া সরকারের কয়েকজন সিনিয়র সদস্য। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ মোহাম্মদি ও ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের আহমদ মাসুদ। মূলত আহমদ মাসুদই এখন পর্যন্ত উপত্যকাটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তিনিও নতুন সরকার গঠনে তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু আলোচনার ফলাফল ব্যর্থ হলে লড়াইয়ে তার বাহিনী প্রস্তুত বলেও জানান মাসুদ।
ইতোমধ্যে তালেবানের হাতে পাঞ্জশিরের পতন ঘটতে যাচ্ছে বলছে বলে আভাস দিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু নূরের মতে, জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়াতে পারবে না তালেবান।