‘নতুন তালেবান’ প্রোপাগান্ডায় শক্তিশালী তালেবান

‘তালেবান শাসন’- শুনলেই মানসপটে ঘুরে ফেরে আফগানিস্তানে গেল শতাব্দির শেষদিকের ভয়াবহ চিত্রগুলো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯০-এর গোড়ার দিকে আফগান মুজাহিদিনদের গড়া এই গোষ্ঠীটি প্রায় দুই দশক পর ফের ক্ষমতায়। মার্কিন ও ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহারের পর এরই মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির ক্ষমতা দখল করেছে। ক্ষমতায় বসেই তারা ঘোষণা দিয়েছেন- আমরা ‘সেই তালেবান’ না। এবার আর নারীরা নির্যাতনের শিকার হবেন না, এবার নারীদের সংবেদনশীলভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। নড়েচড়ে বসলো বিশ্ব। বিশ্ব মিডিয়ায় যখন ‘মডারেট তালেবানে’ সন্দেহ-বিস্ময়; তখন ‘অন্দরে’ চলে গেছেন আফগান নারীরা। তারা ঠিকই টের পেয়েছেন, ‘এ তালেবান সেই তালেবানই’।

কাবুল দখলের পরপরই নারী ইস্যু সামনে এনে নিজেদের ‘সংস্কারবাদী নতুন তালেবান’ ঘোষণা দিয়ে গত ১৫ দিনে নিজেদের শক্তিশালী জনসংযোগের ইঙ্গিত দিতে চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবানরা এবার আরও শক্তিশালী ও কৌশলি হয়েছে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে।

টেলিগ্রাফের সংবাদ বলছে, আফগান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তালেবানদের নানা বিষয়ে প্রোপাগান্ডা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বা টুইটারে শীর্ষ নেতারা থেকে শুরু করে ‘অফিশিয়াল প্রোপাগান্ডা কর্মীরা’ সাইবার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাইবার যুদ্ধটা কী রকম? অ্যাক্টিভিস্টরা বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করছেন, আফগানিস্তানে বাড়ির দরজায় দরজায় নক করে মানুষজনকে হত্যা করা হচ্ছে। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে তালেবান প্রচারণা চলছে সমানতালে। বারবার টুইট করা হচ্ছে- বাড়ির দরজায় দরজায় কেউ নক করছে না। ‘এই ফেইক নিউজ’ দিয়ে তালেবানদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা বন্ধ করুন।

পাঞ্জশির উপত্যকার প্রাদেশিক রাজধানীতে প্রবেশের দাবি করেছে তালেবান। এই উপত্যকায় কয়েকদিন ধরে তালেবানবিরোধী প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের লড়াই চলছে। তালেবানের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেওয়া আফগানিস্তানের ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (এনআরএফ) ফাহিম দাস্তি দাবি করেছেন, মনোযোগ সরিয়ে নিতে নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে যার কোনও সত্যতা নেই। অবশ্য এই লেখাটি যখন লিখছি, সেসময় ফাহিম দাস্তি আর নেই। রবিবারের ভয়াবহ সংঘাতে তিনি নিহত হয়েছেন। এনআরএফের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

পাঞ্জশির এই ঘটনার ঠিক আগেরদিন তালেবান যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে উঠেছে আরেক ভয়াবহ অভিযোগ। তারা দেশটির ঘোর প্রদেশের রাজধানী ফিরোজকোহ শহরে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করেছেন। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এই তথ্য জানিয়েছে। অন্তত তিনটি সূত্র বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, বানু নেগার নামে ওই নারীকে শনিবার তার স্বামী ও সন্তানদের সামনেই পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবার বলেছে, তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

এদিকে কাবুলে নারী অধিকার কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড করে দিয়েছে তালেবান। নারী অধিকারকর্মীদের গ্রুপটি দাবি করেছে, একটি ব্রিজ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যাওয়ার সময় তালেবান তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

যদিও একের পর এক এসব খবরের কোনোটাই স্বীকার করেনি তালেবান। তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি দিয়ে নানা মাধ্যমে বারবার একই দাবি করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমকে তাদের তৈরিকৃত প্রোপাগান্ডা বার্তা দিয়ে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেই যাচ্ছে।


আরও পড়ুন
টিভি নিষিদ্ধ ও দাড়ি কাটায় মানা: কেমন ছিল তালেবান-শাসিত আফগানিস্তান