তাইওয়ানের সঙ্গে ১০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন বাইডেন প্রশাসনের

তাইওয়ানের সঙ্গে ১০ কোটি ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন। সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইডেন প্রশাসনের এমন অনুমোদনের ফলে চীনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

চুক্তির আওতায় তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে অঞ্চলটিতে ১০ কোটি ডলারের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সেবা-সরঞ্জাম বিক্রি করবে ওয়াশিংটন।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্যের জন্য এটি জরুরি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ)। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ জড়িত রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থেই তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও জোরদার করতে চায়।

বাইডেন প্রশাসনের এমন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে তাইওয়ান। এক মাসের মধ্যেই চুক্তিটি কার্যকরের কথা জানিয়েছে দেশটি।

সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা জোনে দফায় দফায় চীনা যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে বোমারু বিমানও রয়েছে।

চীন-তাইওয়ান বিরোধের সূত্রপাত ১৯২৭ সালে। ওই সময়ে চীনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা জাতীয়তাবাদী সরকারকে উৎখাতের মধ্য দিয়ে এ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে তাইওয়ান যান। এখনও তারাই তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিকভাবে ওই সময় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে পড়লেও উভয় দেশই নিজেদের চীনের দাবিদার হিসেবে উত্থাপন শুরু করে। তাইওয়ানভিত্তিক সরকার দাবি করে, চীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের দ্বারা অবৈধভাবে দখল হয়েছে। আর বেইজিংভিত্তিক চীন সরকার তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্নতাকামী প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বেড়েছে এবং দ্বীপটিকে আবারও নিয়ন্ত্রণে পেতে শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে চীন। যদিও হাতে গোনা কয়েকটি দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে এর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের অনেক দেশের সঙ্গেই দৃঢ় বাণিজ্যিক ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে।