পাকিস্তানের করাচির পুলিশ প্রধানের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। শারিয়া ফয়সাল এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যপমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ বলেছেন, পাঁচ তলা ভবনটির তিন তলায় অভিযান চালানো হয়েছে। দুটি তলা ও ছাদ এখনও বাকি রয়েছে।
শাহ বলেছেন, দুই জঙ্গি নিহত হওয়ার তথ্য তিনি পেয়েছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা তিনি দিতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেছেন, প্রাদেশিক সরকার সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে। পুলিশ প্রধান এই মুহূর্তে করাচিতে নেই। কেন্দ্রীয় সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা।
সিন্ধু রেঞ্জার্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আট থেকে দশজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।
ডন জানিয়েছে, করাচির গুরুত্বপূর্ণ শারিয়া ফয়সাল এলাকায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় গোলাগুলি শুরু হয়। এই এলাকায় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফয়সাল ঘাঁটি রয়েছে।
পুলিশ প্রধানের কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত সাদ্দার পুলিশ স্টেশন। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারাও হামলার শিকার হয়েছে। গোলাগুলি চলছে।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও রেঞ্জারদের পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণের ডিআইজি ইরফান বালুচ বলেছেন, গোলাগুলি চলছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। আমরা জঙ্গিদের জীবিত অথবা মৃত গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেছেন, চতুর্থ তলায় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। কোনও আত্মঘাতী নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর পুলিশ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দিয়েছে।
সিন্ধু সরকারের এক মুখপাত্র মুর্তজা ওয়াহাব বলেছেন, এক পুলিশ সদস্য ও এক বেসামরিক নিহত হয়েছে।
পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সাঈদ বলেছেন, জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারে দুটি মরদেহ আনা হয়েছে। নিহতদের একজন পুলিশ কনস্টেবল গুলাম আব্বাস বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।
ইডি ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র অপর নিহত ব্যক্তিকে আজমল মাসিহ (৪০) বলে শনাক্ত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জিও নিউজকে বলেছেন, পুলিশের পোশাক পরে হামলাকারীরা ভবনে প্রবেশ করেছে। এর আগে পেশাওয়ারে পুলিশ লাইন্সের একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলার সময়ও একই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছিলেন।
পাকিস্তানে নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর আগে ২০১১ সালে করাচির একটি নৌঘাঁটিতেও হামলার দায় স্বীকার করেছিল।