তাইওয়ানের উত্তর দিকে আকাশসীমা সাময়িক বন্ধের পরিকল্পনা করছে চীন। বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত চারটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। সূত্র মতে, ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত আকাশসীমা বন্ধ করার পরিকল্পনা ছিল চীনের। তবে তাইওয়ানের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত ১৬ তারিখ সকালে ২৭ মিনিট সময়ের জন্য কমিয়ে এনেছে বেইজিং। এতে ওই অঞ্চল দিয়ে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দূর হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চার কর্মকর্তা বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাইওয়ানের নর্দার্ন ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন (এফআইআর) বাধাগ্রস্ত হতো। সামরিক মহড়া আয়োজনের জন্য চীন এই নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছিল।
এই বিষয়ে চীনের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাইওয়ানের পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের প্রাথমকি পরিকল্পনা ছিল ১৬-১৮ এপ্রিল পর্যন্ত আকাশসীমা বন্ধ রাখার। কিন্তু পরে তা ১৬ তারিখ সকালে মাত্র ২৭ মিনিটে কমিয়ে আনা হয়েছে।
স্বশাসিত তাইওয়ানকে ঘিরে কয়েক দিনের সামরিক মহড়া শেষে এই পরিকল্পনার কথা সামনে এলো। যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের সঙ্গে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের পর এই মহড়া শুরু করে বেইজিং।
পরিকল্পনার বিষয়ে এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার উত্তরপূর্ব এশিয়া থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মোট ফ্লাইটের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রভাবিত হবে। তাইওয়ানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও উত্তর আমেরিকার ফ্লাইটেও এর প্রভাব থাকবে।
বিমান চলাচল খাতের সমবায়মূলক প্রতিষ্ঠান ওপসগ্রুপের আগের তথ্য অনুসারে, গত বছর আগস্টে চীনের সামরিক মহড়ায় আকাশসীমা বন্ধের ফলে ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছিল। অনেক পাইলট অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তাইওয়ানের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, কূটনীতি, গোয়েন্দা ও অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষসহ একাধিক চ্যানেলকে কাজে লাগিয়ে চীনকে তাদের মূল পরিকল্পনা থেকে সরানো গেছে।
তিনি আরও বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা প্রভাবিত হবে এমন সব পক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে তাইওয়ান। এর মধ্যে রয়েছে জি-৭। এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্য ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল জাপান সফর করবেন।