পারমাণবিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন, বৈঠকে বসছেন দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য সোমবার রওনা দিয়েছেন। ২৪-২৯ এপ্রিল  তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকবেন। সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে একটি শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন। এমন সময় তিনি এই সফর করছেন যখন উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

গত ১২ বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনও নেতার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দেশের অংশীদারত্বের ৭০তম বার্ষিকীও উদযাপন করা হবে এই সফরে। এই অংশীদারত্বের ফলে এশিয়ায় মার্কিন নীতি দৃঢ় হয়েছে এবং অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে সিউলের উত্থানের ভিত্তি প্রদান করেছে।

উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তরের হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমনকি খোদ প্রেসিডেন্টের দলের পক্ষ থেকেও নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আহ্বান আসছে।

আসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশের বেশি বেশি উত্তরদাতা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র তার এশীয় মিত্রদের রক্ষা করার জন্য নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি নেবে না। ৬৪ শতাংশের বেশি দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, বিরোধিতা করেছেন ৩৩ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্ধিত প্রতিরোধে দক্ষিণ কোরিয়ার কথা বলার সুযোগ বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে ইউন। কিন্তু ঠিক কী অর্জিত হবে এর ফলে তা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হচ্ছে না।

ইউনের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেছেন, উভয় পক্ষ বর্ধিত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালনা করার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। আশা করি শীর্ষ সম্মেলনের পরে একটি যৌথ বিবৃতিতে অগ্রগতি তুলে ধরা হবে।

কিম তায়ে-হিয়ো নামের এই উপদেষ্টা বলেন, আমি এখন যা বলতে পারি তা হলো বর্ধিত প্রতিরোধের প্রতি জনগণের আগ্রহ এবং প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, গত কয়েক বছরে ধরে তথ্য আদান-প্রদান, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো আরও সুসংগঠিত করার পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে। যাতে করে বিস্তৃত চিত্র যে কেউ সহজে বুঝতে পারে, বুঝতে পারে কীভাবে এটি বাস্তবায়িত ও বিকশিত হয়।

শুক্রবার এক সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে উত্তরের পারমাণবিক হামলা প্রতিরোধে মার্কিন অঙ্গীকার জোরদার করতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন বাইডেন। 

সূত্র: রয়টার্স