ভারতের চব্বিশের লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। কর্ণাটক বিধানসভা ভোটের মুসলিম ভোট একচেটিয়া কংগ্রেসের পক্ষে যাওয়ার পর, এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলিম অধ্যুষিত লোকসভা আসনগুলোতে জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। মুসলিম অধ্যুষিত এরকম ৬০টি লোকসভা কেন্দ্রকে চিহ্নিত করে জেতার লক্ষ্যে চব্বিশের রণনীতি তৈরি করছেন শাহ-নাড্ডারা। এমনটাই গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর।
জানা গেছে, ভারতে মুসলিম প্রধান রাজ্যগুলোর মধ্যে যেগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে তার মধ্যে উত্তরপ্রদেশে ১৯.২৬, বিহারে ১৬.৮৭, পশ্চিমবঙ্গে ২৭.১, মহারাষ্ট্রে ১১.৫৪, ঝাড়খণ্ডে ১৪.৫৩, কর্ণাটকে ১২.৯২, দিল্লিতে ১২.৮৬, রাজস্থানে ৯.০৭, হরিয়ানায় ৭.০৩ ও মধ্যপ্রদেশে ৬.৫৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। ২০১৪ সালে দেশটির মুসলিম অধ্যুষিত ৯২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৫০ শতাংশ বিজেপির পক্ষে এসেছিল। দলটি পেয়েছিল ৪৫টি আসন এবং ১৬ শতাংশ মুসলিম ভোট। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ২০ শতাংশ মুসলিম ভোট জিতেছিল তারা। এবার গেরুয়া শিবিরের টার্গেট ৬০টি লোকসভা আসন।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভারতের ২২০টি লোকসভা আসনে ১০ শতাংশ, ৯২ টি আসনে ২০ শতাংশ, ৪১ টি আসনে ২১ থেকে ৩৬ শতাংশ, ২৪ টি আসনে ৩১ থেকে ৪০ শতাংশ ও ১১টি আসনে ৪১ থেকে ৫০ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। এখান থেকে ৪১টি আসন ও ২৪টি আসন মিলিয়ে হয় মোট ৬৫টি আসন। যার মধ্যে ৬০ টি আসনকে টার্গেট করেছে গেরুয়া শিবির।
ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা দুটি ভাগে বিভিক্ত। একটি উচ্চবর্ণের, যারা আশরাফ নামে পরিচিতি অপরটি পশমন্দা। পশমন্দা শব্দটি ফার্সি। এর অর্থ পিছিয়ে পড়া। দেশটির মুসলিম জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ হচ্ছেন পশমন্দা। বিজেপির টার্গেট করা ৬০টি লোকসভা আসনে এরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ইতোমধ্যে এদের মন জয় করা নিয়ে বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠকে একপ্রস্থ আলোচনা সেরে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। পিছিয়ে পড়া মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরেই তিনটি দাবি করে আসছেন। তাদের তপশিলি সংরক্ষণের আওতায় আনা, সামাজিক বিভিন্ন অন্যায় থেকে মুক্তি ও রাজনৈতিকভাবে এই সমাজের প্রতিষ্ঠা। স্বাধীন ভারতে এখন পর্যন্ত এই সমাজ থেকে মাত্র ৬০ জন সংসদ সদস্য হয়েছেন। মুসলিমদের এই সমাজে আনসারি, কোরেশি, মনসুরি, সালমানি এবং সিদ্দিকীসহ ৪১টি গোষ্ঠি রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই কসাই এবং তাঁতীর মতো পেশায় রয়েছেন। তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া বলে বিবেচনা করা হয়।
বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি জামাল সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা ৬০টি লোকসভা আসন চিহ্নিত করেছি যেখানে মুসলমানদের সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি। এই প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে প্রায় ৫ হাজার জনকে বেছে নেওয়া হবে যারা সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রী মোদির উন্নয়ন কর্মসূচির প্রশংসা করেছেন এবং মুসলিমদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য বিভিন্ন রাজ্যে যখন সমাবেশের অংশ নেবেন। এজন্য তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী দানিশ আজাদ আনসারি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের দলীয় কর্মীদের পশমন্দা মুসলিমসহ সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছাতে বলেছিলেন, তারা বিজেপির পক্ষে থাকুক বা না করুক। প্রধানমন্ত্রী কেবল পশমন্দা মুসলমানদেরই আহ্বান করছেন না, তাদের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নতির দরজাও খুলে দিচ্ছেন।’
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভাপতি বাসিত আলি বলেন, ‘বিজেপি পৌরসভার ভোটে পশমন্দা মুসলিমদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা করছে। আমরা পরিকল্পনা করেছি, এই মুসলিমদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর লোকেরা তাদের সমাজে সম্মেলন করবে এবং বিজেপি নেতারা তাদের কাছে দলের আদর্শ এবং সরকারের পরিকল্পনা জানাতে ওই সম্মেলনগুলোতে অংশ নেবেন। এসপি, বিএসপি, কংগ্রেস, তৃণমূলের মতো দলগুলো মুসলমানদের তাদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছে, তবে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে ক্ষমতায়ন করবে।’