প্রকাশ্যে প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা করা সেই প্রেমিক গ্রেফতার

ভারতের দিল্লিতে ১৬ বছর বয়সী প্রেমিকাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যাকারী প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ২০ বছর বয়সী প্রেমিককে উত্তর প্রদেশ থেকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।  

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, যখন যুবকটি ওই মেয়েকে হত্যা করছিল তখন সেখানে দাঁড়িয়ে অনেক মানুষ দেখছিলেন বা কেউ কেউ পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

পুলিশ বলেছে, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রবিবার হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে।

সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা রবি কুমার সিং বলেছেন, মেয়েটি এক বন্ধুর ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়।

হত্যাকারী যুবককে সাহিল হিসেবে শনাক্ত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, তাকে প্রতিবেশী রাজ্য উত্তর প্রদেশের বুলান্দশর জেলার কাছাকাছি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব না।

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে অনেকে নিজেদের রাগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ‘দিল্লি মার্ডার’ ও ‘দিল্লি ক্রাইম’ শীর্ষক হ্যাশট্যাগ টুইটারে ট্রেন্ডিংয়ে চলে আসে।

এক টুইট বার্তায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই হত্যাকাণ্ডকে খুব দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, অপরাধীরা ভীত নয়, পুলিশকে কেউ ভয় পায় না।

দিল্লির নারী কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল বলেছেন, অপরাধটি সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়েছে। অনেক মানুষ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। কেউ এগিয়ে আসেননি। নারী ও মেয়েদের জন্য চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে দিল্লি।

নারী বিষয়ক জাতীয় কমিশনের চেয়ারপারসন রেখা শর্মা বলেছেন, এই অপরাধ দেখিয়ে দিয়েছে দিল্লির মানুষের মধ্যে সংবেদনশীলতার অভাব। ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ ছিলেন। কেউ মেয়েটিকে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেননি। মামলাটির বিচার যত দ্রুত সম্ভব হওয়া উচিত।

অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা না করে ভিডিও করার জন্য অনলাইনে অনেক সমালোচনা হয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালে দিল্লিতে চলন্ত বাসে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার পরও এমন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। হামলায় আহত ওই মেয়েটির ছেলে সঙ্গী পরে জানায় কীভাবে তাদের আহত করা হয়। ২৫ মিনিট ধরে রক্তপাত হলেও কেউ তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি।