পাকিস্তানে রেকর্ড ভাঙা মৌসুমি বৃষ্টিতে ১১ মৃত্যু

বৈরি আবহাওয়ায় ফের নাকাল পাকিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।  গত বছর টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ।  

রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিতে বুধবার পাঞ্জাব প্রদেশে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) বুধবার জানায়, বৃষ্টি সম্পর্কিত ঘটনায় আরও ৬ জন আহত হয়েছেন।

পাঞ্জাবের ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, ‘বেশিরভাগ মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হয়েছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন অংশে ছাদ ধসেও দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নিয়মিত আপডেট সংগ্রহ করছি।’

লাহোরে মঙ্গলবার ১০ ঘণ্টায় ২৯১ মিমি. বৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রধান রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। বৃষ্টির পানি শহরের দুটি সরকারি হাসপাতালে প্রবেশ করায় বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

আরও তিনটি হতাহতের খবর পাওয়া গেছে উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে প্রদেশের বেশিরভাগ অংশ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে ও ভূমিধস হয়েছে।

 

আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস

পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখোয়া, দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশ, গিলগিট-বালতিস্তান এবং পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের কিছু অংশে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ।

স্থানীয় মিডিয়া অনুসারে, জুনে শুরু হওয়া চলতি বর্ষা মৌসুমে এ পর্যন্ত পাকিস্তানজুড়ে ৪০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।  

জলবায়ু সংকটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ দেখছে বিশ্ব। গত বছর টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় পাকিস্তানে এক তৃতীয়াংশ অঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যায় মারা যান এক হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ। বেলুচিস্তান এবং সিন্ধুতে কয়েক হাজার বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা এবং সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সূত্র: দ্য ডন