বেইজিংয়ে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে হেনরি কিসিঞ্জারের বৈঠক

প্রবীণ মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার বেইজিয়ে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার চীনা মন্ত্রণালয়ের নথিতে বৈঠকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈঠকে কিসিঞ্জার নিজেকে ‘চীনের একজন বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

চীনা মন্ত্রণালয়ের রিডআউটে বলা হয়েছে, লি শাংফু বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ধ্বংস হয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মানুষ মাঝামাঝি অবস্থানে চীনের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী নন।

চীনের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে কিসিঞ্জার বলেছেন, একে অপরকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার মতো বিষয় যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের পক্ষে সুবিধাজনক নয়। দুই দেশ যদি যুদ্ধে জড়ায় তা দেশ দুটির জনগণের জন্য অর্থপূর্ণ কোনও ফল বয়ে আনবে না।

শতবর্ষী সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার এমন সময় চীন সফরে এসেছেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু দূত জন কেরি বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। দুই দেশ কীভাবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করছেন কেরি। এর আগে চীন সফর করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

বেশ কয়েক মাস ধরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন বিরাজ করছে। কিন্তু গত মাস ধরে সম্পর্কোন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতে আনুষ্ঠানিক সংলাপের জন্য দুই দেশের পক্ষ থেকেই সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

কিসিঞ্জারের সফর সরকারি সূচিতে রাখা হয়নি। ১৯৭১ সালে সর্বশেষ গোপন বৈঠকের ৫২ বছর পর এই সফর করছেন তিনি। তার শেষ সফর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথ খুলে দিয়েছিল। অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় পরও কিসিঞ্জারকে অনেকেই ‘চীনের বন্ধু’ হিসেবে বিবেচনা করেন। মে মাসে চীনা ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস কিসিঞ্জারের প্রশংসা করে তাকে ‘তীক্ষ্ণ বুদ্ধির’ একজন মানুষ বলে উল্লেখ করেছিল।

এই বিষয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।