প্রায় ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরে। দেশটির নাগরিক সারিদেউই জামানি ২০১৮ সালে ৩০ গ্রাম হেরোইন পাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। তার বয়স এখন ৪৫। মানবাধিকার আইনজীবীদের বরাতে বিবিসি এ খবর ছাপিয়েছে।
মাদক আইনের সর্বোচ্চ সাজা সম্প্রতি কার্যকর করা শুরু করেছে সিঙ্গাপুর। ২০২২ সালের মার্চ থেকে ১৫টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি। সবশেষ তিনদিন আগে মোহাম্মদ আজিজ বিন হুসেন নামে এক মাদক কারবারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সিঙ্গাপুর সরকার।
দেশটির সরকার বলছে, সমাজকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কঠিনতম মাদকবিরোধী আইন রয়েছে সিঙ্গাপুরে। এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে।
আজিজ ৫০ গ্রাম হেরোইন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। সিঙ্গাপুরের আইনে, ১৫ গ্রামের বেশি হেরোইন এবং ৫০০ গ্রামের বেশি গাঁজা পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যেতে পারে।
গত এপ্রিলে তাঙ্গারাজু সুপিয়াহকে এক কেজি গাঁজা পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিনি এই বিক্রির সমন্বয় করেছিলেন।
সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল নারকোটিক্স ব্যুরো (সিএনবি) বিবিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জামানির মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।
সিঙ্গাপুরে মাদক নিয়ে এমন সাজার কড়া সমালোচনা করেছে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।
অ্যামেনেস্টি বলছে, মাদকের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এখন কেবল চীন, ইরান, সৌদি আরব এবং সিঙ্গাপুরে কার্যকর হয়।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ট্রান্সফরমেটিভ জাস্টিস কালেক্টিভের মতে, সারিদেউই সিঙ্গাপুরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নারীর একজন। তারা বলছে, ২০০৪ সালে ইয়েন মে উয়েন নামে একজনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল। মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি।
স্থানীয় মিডিয়া জানায়, সারিদেউই রোজার মাসে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হেরোইন মজুত করেছিলেন।
সূত্র: বিবিসি