নজরে চীন

প্রত্যন্ত দ্বীপে বন্দর নির্মাণে ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা

ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রত্যন্ত দ্বীপে একটি বেসামরিক বন্দর নির্মাণে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় গভর্নর ও দুই কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, এই বন্দরের মাধ্যমে চীনকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষে তাইওয়ানের মুখোমুখি অবস্থিত কৌশলগত দ্বীপগুলো ব্যবহার সহজ  হবে। 

স্থানীয় গভর্নর ও অন্য দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ফিলিপাইনের প্রত্যন্ত দ্বীপে একটি বেসামরিক বন্দর নির্মাণের আলোচনা করেছে। এমন সিদ্ধান্ত তাইওয়ানে কৌশলগতভাবে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়াবে।

বাটানেস দ্বীপপুঞ্জের প্রাদেশিক গভর্নর মারিলো কায়কো রয়টার্সকে এক বার্তায় বলেছেন, এখানে ‘বিকল্প বন্দর’ নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। যা রাজধানী ম্যানিলা থেকে মালামাল খালাসে সুবিধা দেবে। বিশেষ করে ঝড়ের মৌসুমে।

তিনি বলেছেন, বাসকো দ্বীপে একটি বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে উঁচু ঢেউ প্রায়ই বিদ্যমান বন্দরটিকে দুর্গম করে তোলে। অক্টোবরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তাইওয়ান ও দ্বীপগুলোর মধ্যে বাশি চ্যানেলকে পশ্চিম প্রশান্ত ও বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীনসাগরে চলাচলের জন্য কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। চীন যদি তাইওয়ানে আক্রমণ করে তাহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হয়ে উঠবে। চীনের সেনাবাহিনী নিয়মিত  চ্যানেলটিতে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ফিলিপাইনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা বলেছেন,  মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বন্দর নিয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি বাটানেস পরিদর্শন করেছেন।

এক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ফিলিপিনো সেনাবাহিনী রাডার ও এলাকাটিতে পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা উন্নত করতে আগ্রহী।

মেয়র মারিলো কায়কো মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত  করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা প্রস্তাবিত বিকল্প বন্দরটি একবারের জন্য পর্যালোচনা করতে এসেছিলেন।

এমন সময় এই বন্দর নির্মাণ পরিকল্পনার কথা সামনে আসলো যখন ফিলিপাইনসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনকে মোকাবেলা করার জন্য ওয়াশিংটন এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক করছে। ফিলিপাইন দেশটির সাবেক  উপনিবেশ এবং চুক্তিবদ্ধ মিত্র।

ম্যানিলার  মার্কিন দূতাবাসের এক  মুখপাত্র কানিষ্কা গাঙ্গুলি  বলেছেন, মার্কিন দূতাবাস  ও  প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা গভর্নর ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে  তাদের  অনুরোধে কাজ করছেন।

ফিলিপাইন গত বছর যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। যেকোন সময়দেশটিতে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা উপস্থিত হতে পারবে।