জি-২০ সম্মেলন: বস্তি ও বানরের পর কুকুর মুক্ত হচ্ছে দিল্লি

ভারতের রাজধানী দিল্লির সড়কে ঘুরে বেড়ানো কয়েক হাজার কুকুর ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে কর্তৃপক্ষ। আটক করার করার এসব কুকুরকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে জি-২০ সম্মেলন আয়োজনকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। অ্যাক্টিভিস্ট ও নিজস্ব প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, সম্মেলনের আগে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে শহরের অনেক বস্তি উচ্ছেদ করেছে। একইসঙ্গে জনসমাগমস্থলে বানরের উপস্থিতি ঠেকাতে লাঙ্গুরের কাটআউট বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে।

ভারতীয় রাজধানীতে বিশ্বনেতাদের নিয়ে সবচেয়ে বড় আয়োজন এই জি-২০ সম্মেলন। এতে অংশগ্রহণ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।

ছবি: রয়টার্স

মিউনিসিপাল করপোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি) সড়ক থেকে কুকুর অপসারণকে সরাসরি সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখাতে রাজি  নয়। তারা বলছে, জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, কুকুর ধরার কাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে ‘জি-২০  এর দায়িত্ব পালনরত’ লেখা রয়েছে।

দিল্লিতে প্রায় ৬০ হাজার নেড়ি  কুকুর রয়েছে বলে সরকারি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কুকুর ২ কোটি বাসিন্দার দেওয়া খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। তবে এসব কুকুরের পক্ষ থেকে মানুষকে কামড় দেওয়ার ঘটনা প্রায় সময় ঘটে।

আগস্টে এমসিডি জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের আশপাশ থেকে কুকুর অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সমালোচনার পর দুই দিনের মাথায় এই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ছবি: রয়টার্স

অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, গত সপ্তাহ থেকে নগর কর্তৃপক্ষ অমানবিক উপায়ে কুকুর ধরতে শুরু করে। এক্ষেত্রে গাইডলাইনে জাল দিয়ে বা হাত দিয়ে ধরার মতো পদ্ধতি বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কুকুর বিমানবন্দর ও জি-২০ সম্মেলনস্থল থেকে ধরা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তিনি দেখেছেন এমসিডির দল এক প্রান্ত গোল করা রড দিয়ে  কুকুর ধরছেন। পরে টেনেহিঁচড়ে সেগুলোকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে।

পিপল ফর অ্যানিমেল নামক এনজিও-এর ট্রাস্টি  আম্বিকা শুক্লা বলেছেন, ভারত যা করছে তা হাস্যকর। কারণ জি-২০  সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো- এক পৃথিবী, এক পরিবার, এক ভবিষ্যৎ। যখন আমরা আমাদের সহ-সত্তার জন্য স্থান রাখি না তখন সম্মিলিত ভবিষ্যতের কথা বলা ভণ্ডামি।

ছবি: রয়টার্স

হাউজ অব স্ট্রে অ্যানিমেলস নামক এনজিও-এর প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় মহাপত্র এই পদক্ষেপকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সম্মেলনে আসা প্রতিনিধিরা যদি দেখেন মানুষ কুকুরকে খাবার দিচ্ছে তাহলে দেশের একটি ভালো ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারে। 

এক বিবৃতিতে এমসিডি বলেছে, আটক করা  কুকুরগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যেখান থেকে ধরা হয়েছে সেখানে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে কোনও সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়নি।