আসিয়ান সম্মেলনে পরাশক্তিদের উপস্থিতি কীসের বার্তা দিচ্ছে?

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ৪৩তম শীর্ষ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারতের প্রতিনিধিরা। জোটের সদস্য দেশের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইন্দোনেশিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, শান্তি পরিকল্পনায় মিয়ানমারের জান্তার অস্বীকৃতি, ইউক্রেনে যুদ্ধ ও রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে মার্কিন অভিযোগের মধ্যে আসিয়ান সম্মেলনে তাদের উপস্থিতি অঞ্চলটিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আসিয়ানের ১০টি সদস্য দেশ হলো, সিঙ্গাপুর, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মিয়ানমার। বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন, জাপান ও ভারতের পরেই আসিয়ানের অবস্থান এবং এই জোট অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের মধ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আসিয়ান সভাপতি ও ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো বিশ্বনেতাদের বিরোধ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ধ্বংসাত্মক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে ইঙ্গিত করে দেশগুলো বলছে, তারা এসব দেশকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলছে।

১০ দেশের জোট আসিয়ানের চেয়ারম্যান উইডোডো বলেন, আমাদের সবার দায়িত্ব নতুন সংঘাত, নতুন উত্তেজনা, নতুন যুদ্ধের সৃষ্টি না করা। একই সঙ্গে উত্তেজনা কমানোও আমাদের দায়িত্ব। শক্তিশালীদের শাসন দ্বারা সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিকতা প্রতিস্থাপিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এক জায়গার সংঘাত ও উত্তেজনা অন্য জায়গায় নিয়ে গেলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।

এর আগে বুধবার চীনের লি ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ শুরু করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। বাকি দেশগুলোকে সংঘাতে পক্ষ নেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

হ্যারিস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী প্রতিশ্রুতির’ কথা তুলে ধরেছেন।

হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের বেআইনি সামুদ্রিক দাবি ও দক্ষিণ চীন সাগরসহ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আসিয়ানের সঙ্গে কাজ করবে।

মুখপাত্র জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হ্যারিস। দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরের বর্তমান অবস্থা একতরফাভাবে পরিবর্তনের বিরোধিতায় জোর দিয়েছেন তিনি। চীন ও জাপান উভয়েই পূর্ব চীন সাগরে একটি দ্বীপের মালিকানা দাবি করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কট্টর মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল বলেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরের পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না।

চীনের লি ও জাপানের কিশিদা বুধবার শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠক করেছেন। ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় পানি সমুদ্রে পতিত হওয়ার বিষয়ে তারা আলোচনা করেন। সমুদ্রে পানি ছাড়ার কারণে চীন জাপান থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।

সূত্র: রয়টার্স