মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দুরবস্থার অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (কেএসএম)। এই লক্ষ্যে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রণালয়টি। রবিবার মানবসম্পদ মন্ত্রী ভি. সিভাকুমার এই ঘোষণা দেন। বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্বিষহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে অভিবাসী অধিকারকর্মীর চিঠির পর এই ঘোষণা দেওয়া হলো। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা এ খবর জানিয়েছে।
৩০ অক্টোবর “মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবস্থা ‘ভয়াবহ’, জাতিসংঘে চিঠি” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বাংলা ট্রিবিউন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২৫ অক্টোবর) কর্মীদের দুরবস্থা এবং কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করার বিষয়টি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের (ওএইচসিএইচআর) কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন এশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্রিটিশ অ্যাক্টিভিস্ট অ্যান্ডি হল। সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি নিজেই এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মালয়েশিয়ায় কয়েকশ’ বাংলাদেশি কর্মীর কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপনের প্রতিবেদন করেছিল বাংলা ট্রিবিউন।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী সিভাকুমার জোর দিয়ে বলেছেন, এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো চিঠির অভিযোগের যে কোনও সত্যতা নেই, তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, আমি এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখি কারণ আমি আইন বহির্ভূত পদক্ষেপগুলো প্রতিরোধ করতে চাই। আমি আরও চাই এমন ঘটনায় জড়িত কেউ যেন এগুলোর পুনরাবৃত্তি না করে। আমরা দেশে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার ঘটনা এড়াতে চাই।
অ্যান্ডি হল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) আওতাধীন সংস্থা ওএইচসিএইচআরকে চিঠি লিখেছেন, সেখানে তিনি কর্মীদের পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে তিনি সংকীর্ণ থাকার জায়গা, দুর্বল স্যানিটেশন, সীমিত খাদ্য এবং গত ১৮ মাস বা তারও বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয়ের কারণে কীভাবে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন।