নেপালে ভূমিকম্পে নিহতদের জন্য স্বজনদের কান্না

নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শেষকৃত্য সম্পন্ন করছেন স্বজনরা। গত আট বছরের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। রবিবার নিহতদের শেষকৃত্য শুরু হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জন্য অনুসন্ধান জারি রেখেছিলেন। তবে সন্ধ্যায় তা বাতিল  করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, শুক্রবার গভীর রাতের ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৫৭ জন। আহত হয়েছেন আরও ২৫০ জনের মতো।

ভেরী নদীর তীরে সাদা কাপড়ে মোড়া দশটি মরদেহ ঘিরে হিন্দু ধর্ম মতে শেষকৃত্য আয়োজনের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বজনরা। এদের একজন ৩২ বছর বয়সী বলজিত মাহার। ভূমিকম্পে তিনি সাত বছরের ছেলেকে হারিয়েছেন।

জাজারকোট জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রাম চিউরির বাসিন্দা মাহার বলেন, আমরা তাকে বাঁচাতে পারিনি। পরিবারের অপর ছয় সদস্য কম্পন শুরুর পর দ্রুত ঘরের বাইরে আসতে পেরেছে। আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম।

তিনি জানান, মাটি ও পাথরের তৈরি একতলা ঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে ছেলের মরদেহ বের করেছেন।

নেপালের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৪ বললেও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলেছে ৫ দশমিক ৬।

নেপালে ২০১৫ সালের পর এই ভূমিকম্প সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই সময় প্রায় ৯ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। দশ লক্ষাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।

শুক্রবারের ভূমিকম্পে জাজারকোট ও প্রতিবেশী পশ্চিম রুকুম জেলায় হাজারো বাড়িঘর ভেঙে গেছে। এগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

মাহার বলেন, আমার সব জিনিসপত্র ও পোশাক ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়েছে। আমার আর কিছুই নেই।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র কুবের কাদায়াত বলেছেন, আক্রান্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন করা হবে। সরকার আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত পরিবারগুলোর আশ্রয়, খাবার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত  করা হবে। তাৎক্ষণিক সহযোগিতা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১৫০০ ডলার করে দেওয়া হবে।

নেপালের হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী ‘অস্পৃশ্য’ বলে পরিচিত চিউরির দলিত সম্প্রদায়ের কয়েকজন বলেছেন, তাদের কাছে সরকারের কোনও প্রতিনিধি আসেননি বা সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। 

ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন বলেছেন, তারা ভবন ধসের বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। পরিবারের আহত ছয় সদস্যকে নিয়ে নেপালগুঞ্জের একটি হাসপাতালেআসা শান্ত বাহাদুর বিকে বলেন, ধুলোর একটি কুণ্ডলী ছিল। আমরা নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না, চোখেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না।

জাজারকোটের রাজধানী খালাঙ্গায় জীবিতরা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির পাশে রাস্তায় রাতযাপন করেছেন। শীত এড়াতে কম্বল গায়ে দিয়েছেন তারা।

বিকে বলেন, প্রতিটি মরদেহের জন্য একটি করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন ছিল। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী দাহ করা হয়েছে।