ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় আভদিভকা শহরের বিধ্বস্ত রণক্ষেত্রে রুশ সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) তারা বলেন, আভদিভকা শহরে অল্প সংখ্যক সেনা এবং সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। শহরটিকে ডোনেস্ক অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বুধবার এই খবর প্রকাশ করেছে।
ইউক্রেনের সামরিক মুখপাত্র ওলেক্সান্ডার শুপুন বলেন, আভদিভকা শহরে স্বল্প পরিসরে স্থল এবং বিমান হামলা হয়েছে। গত এক মাস ধরে রাশিয়ার আক্রমণের অধীনে ছিল শহরটি। যুদ্ধের আগে সেখানে ৩২ হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও এখন আছেন প্রায় দেড় হাজারের মতো বাসিন্দা।
ইউক্রেনের জাতীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক ভাষণে শুপুন বলেন, ‘দখলদার রুশ বাহিনী স্থল ও বিমান হামলার পরিমাণ কমিয়েছে। তবে এখনও মেডিকেল টিম এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহনে গুলি করে যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন করছে তারা।’ তবে ইউক্রেনের সামরিক মুখপাত্রের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।
আভদিভকায় রাশিয়ার সেনা সমাবেশ কম হলেও শহরটি ঘিরে তাদের পরিকল্পনার কোনও পরিবর্তন হয়নি। এ বিষয়ে শুপন বলেন, ‘আক্রমণকারীরা আভদিভকাকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা বাদ দেয়নি। আজ আটটি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।’
শহর প্রশাসনের প্রধান ভিটালি বারাবাশ বলেছেন, একটি শিল্প জেলাতে যুদ্ধ চলছে। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
২০১৪ সালে সাময়িক সময়ের জন্য রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শহরটি দখল করেছিল। কিন্তু দ্রুতই তা ইউক্রেনীয় সেনারা মুক্ত করে এবং শহরটির প্রতিরক্ষা জোরদার করে।
এনভি রেডিওকে ভিটালি আরও বলেন, ‘শত্রুরা আমাদের ছেলেদের চাপে রাখছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য ড্রোন। শুধুই ড্রোন।’
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, কাছাকাছি মারিঙ্কা শহরেও হামলার সংখ্যা বাড়িয়েছে রাশিয়া। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত মাস ধরেই বিতর্ক চলছে।
এদিকে, প্রতিদিনের সামরিক আপডেটে খুব কমই আভদিভকা শহরের কথা উল্লেখ করে থাকে রাশিয়া। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আপডেটে আভদিভকার দক্ষিণের একটি গ্রামে রুশ সেনাদের হামলার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানানো হয়নি।
উভয় পক্ষের এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
গত বছর রাজধানী কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর ইউক্রেনীয় পূর্বাঞ্চলে মনোযোগ দিয়েছে রাশিয়া। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দক্ষিণে, কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী বন্দর শহর ওডেসার অবকাঠামোতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দক্ষিণ খেরসন অঞ্চলে, রুশ নৌবাহিনীর সদস্যরা ‘ডিনিপ্রো দ্বীপপুঞ্জ এবং ডিনিপ্রো নদীর বাম (পূর্ব) তীরে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রবেশে পথ রুখে দিচ্ছে।’
রুশপন্থি ব্লগাররা বলছেন, খেরসন শহরের পূর্বে অবস্থিত ক্রাইঙ্কি গ্রামের কাছে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে রুশ বাহিনী।
গত বছরের শেষের দিকে ডিনিপ্রো শহর এবং এর পশ্চিম তীর থেকে রুশ সেনাদের প্রত্যাহার করেছে রাশিয়া। তবে সেনা প্রত্যাহার করলেও বিপরীত তীর থেকে ইউক্রেন-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে তারা।
ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষক পাভলো নরোজনি এনভি রেডিওকে বলেছেন, ক্রাইঙ্কির সমুদ্র তীরে একটি প্রতিরোধ ঘাঁটি স্থাপন করেছে ইউক্রেনের সেনারা। তারা দক্ষিণে ওলেশকি একটি বৃহত্তম শহরের দিকে এগোচ্ছে।