চীনের সমালোচনা উপেক্ষা করেই তাইওয়ানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত

চীনের সমালোচনার মধ্যেই শনিবার (১৩ জানুয়ারি) তাইওয়ানে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামন্টে নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনকে চীন যুদ্ধ এবং শান্তির মধ্যে একটি পছন্দ হিসেবে তৈরি করেছে। একইসঙ্গে তাইওয়ানকে চীনের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়ার জন্য চাপ বাড়িয়েছে দেশটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

স্বৈরাচারী শাসন এবং সামরিক আইনের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ১৯৯৬ সালে তাইওয়ানে প্রথম সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটিকে চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানের একটি গণতান্ত্রিক সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।  এবার দেশটির ৮ম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয়েছে বিকেল ৪টায়। উৎসবমুখর পরিবেশে তাইওয়ানিরা ভোট দিয়ে নির্বাচনের অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) তাইওয়ানের পৃথক পরিচয়কে রক্ষা করে এবং চীনের আঞ্চলিক দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। এই দলের প্রার্থী বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এবার তৃতীয় মেয়াদে লড়ছেন।

ভোট দেওয়ার আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর তাইনানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জনগণকে তাদের ভোট দেওয়ার জন্য উত্সাহিত করেছিলেন লাই।

সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ভোট মূল্যবান, কেননা এটি তাইওয়ানের কষ্টে অর্জিত গণতন্ত্র।’

নির্বাচনের আগে চীন বারবার লাইকে বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে নিন্দা এবং আলোচনার জন্য তার আহ্বান বারবার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।

লাই বলেছেন, তিনি তাইওয়ান প্রণালী জুড়ে শান্তি রক্ষা করতে এবং দ্বীপের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শনিবার সকালে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে,  আবারও চীনা বেলুনকে সংবেদনশীল তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রম করতে দেখেছে তারা। এসব বেলুনের একটি তাইওয়ানের উপর দিয়ে উড়ে গেছে।

মন্ত্রণালয়টি গত মাসে প্রণালীতে বেলুন উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে নিন্দা করেছিল।