পাকিস্তানে সরকার গঠনের সমীকরণ ও দৌড়ঝাঁপ

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই, শুক্রবার গভীর রাতে বৈঠক করেছেন প্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। কেন্দ্র ও চারটি প্রদেশে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক সমর্থনের আশায় এই বৈঠক হয়েছে-এটা এখন স্পষ্ট।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বক্তব্যে পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ ঘোষণা করেন, তিনি তার ভাই, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে প্রধান রাজনৈতিক দল- পিপিপি, এমকিউএম-পি এবং অন্যদের সাথে জোট গঠনের দায়িত্ব দেন। 

ডনের এক সূত্র জানায়, এ কারণেই পিপিপি নেতা আসিফ আলি জারদারি ও তার ছেলে, বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির সঙ্গে পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মহসিন নকভির বাসভবনে দেখা করেন শেহবাজ। 

বড় কিছু শুরুর জন্যই বৈঠকটি উল্লেখ করে পিপিপির এক সূত্র জানায়,  ভোটের ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি ফলপ্রসূ হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সিনিয়র নেতা আমিনুল হক ডনকে বলেন, পরে শাহবাজ এমকিউএম-পির আহ্বায়ক ডা. খালিদ মকবুল সিদ্দিকীর সাথেও কথা বলেছেন। শাহবাজ শরীফ সন্ধ্যায় তাকে ফোন করেন। খুব শিগগিরই একটি বৈঠক করবেন এই দুজন।

তিনি বলেন, শনিবার আজিজাবাদের জিন্নাহ গ্রাউন্ডে বিজয় উদ্‌যাপনের পরে বৈঠকে বসবেন তারা। 

নির্বাচনের আগে, এমকিউএম-পি ঘোষণা করেছিল, নির্বাচনের পরে তারা  প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নওয়াজ শরিফকে সমর্থন করবে। কিন্তু পিএমএল-এন-এর ফলাফল আশাব্যঞ্জক না হওয়ায়, হতাশ এমকিউএম-পি। তারা সম্ভবত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে। কারণপিএমএল-এনের সাথে পূর্বের করা নির্বাচনী চুক্তি নিয়ে কেন ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন আমিনুল হক। 

এদিকে, এক সংবাদ সম্মেলনে এমকিউএম-পি আহ্বায়ক ডা. খালিদ মকবুল   সিদ্দিকী নির্বাচনে জয়ী সকল স্বতন্ত্র প্রার্থীকে তার দলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে,২০১৪ সালে সংসদ ভবনের বাইরে পিটিআই-এর অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিল মজলিস ওয়াহদাতুল মুসলিমীন (এমডাব্লিউএম)। তারপর থেকেই পিটিআই-এর সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রেখেছিল দলটি।

উভয় দলের সূত্র ডনকে জানিয়েছে,পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন পেতে চাইলে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরকে অবশ্যই কোন না কোন দলে যোগ দিতে হবে। সেক্ষেত্রে দলটি এমডব্লিউএম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

পিপিপি প্রার্থী সাজিদ তুরিকে হারিয়ে পারাচিনার কুররাম (এনএ-৩৭) থেকে এবার জয়ী হয়েছে এমডাব্লিউএমের হামিদ হুসাইন। এদিকে, পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি (পিপি-১৮) থেকে জয়ী হয়েছেন এমডাব্লিউএম প্রার্থী রাজা আসাদ আব্বাস। তার এই জয়, পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদেও পিটিআইকে একইরকম সুবিধা দেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।

পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের ২৯৭ আসনের মধ্যে ৬৬টিই নারী ও অ-মুসলিমদের জন্য সংরক্ষিত। এমডব্লিউএম বা অন্য কোনো দলে যোগ দিয়ে, পাঞ্জাবের ২৪ নারী আসন পেতে পারে পিটিআই।

তবে, এমডব্লিউএম রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদ নকভি বলেছেন, এই বিষয়ে পিটিআই নেতাদের সাথে এখনও কোন আলোচনা হয়নি।

পিটিআই কেন্দ্রীয় তথ্য সেক্রেটারি রওফ হাসান ডনকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলীয় বৈঠকে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়েছে।যদিও আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল নিজেদের দল তৈরি করা। তবে তারা কীভাবে এই দলটি তৈরি করবেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আগামীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ।