দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনীর এক অসুস্থ সদস্যকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে বাধা দিয়েছে চীনা উপকূলরক্ষী। শুক্রবার (৭ জুন) ফিলিপাইনের উপকূলরক্ষী এমন অভিযোগ করেছে। চীনের এমন পদক্ষেপকে ‘বর্বর এবং অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছে তারা। এই ঘটনাটি গত মাসে ঘটেছিল। অসুস্থ হওয়া ওই সদস্য বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে-এর পাহারায় নিযুক্ত নৌবাহিনীর একটি দলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
তখন ফিলিপাইনের একটি জাহাজ বিতর্কিত সেকেন্ড থমাস শোল অঞ্চলে অবস্থান করছিল। গত বছর এই স্থানে চীনের সঙ্গে ফিলিপাইনের একাধিকবার সংঘর্ষ বাধে।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র জে টেরিয়েলা বলেছেন, কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনীর নৌযানগুলো চীনা জাহাজের হয়রানির শিকার হয়। যদিও সেটি চিকিৎসা অভিযান ছিল বলে তাদের জানানো হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে টেরিয়েলা বলেছেন, ‘চীনা কোস্ট গার্ডের প্রদর্শন করা এমন বর্বর এবং অমানবিক আচরণের আমাদের সমাজে কোন স্থান নেই।’
এ বিষয়ে ফিলিপাইনে চীনা দূতাবাস মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দিয়েছে। তবে অবিলম্বে রয়টার্সকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি তারা।
মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সামরিক প্রধান রোমিও ব্রাউনার বলেছিলেন, অসুস্থ সেনাকে পশ্চিমাঞ্চলীয় পালাওয়ান প্রদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা চীনা অবরোধের মুখে ব্যর্থ হয়েছিল।
পরদিন ফিলিপাইনের উপকূলরক্ষীর সহায়তায় আরও একটি প্রচেষ্টার মাধ্যমে অসুস্থ ওই সেনাকে সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রায় সমগ্র দক্ষিণ চীন সাগরকে নিজেদের বলে দাবি করে চীন। এই অঞ্চলে জাহাজ বাণিজ্যে বার্ষিক তিন ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাণিজ্য হয়। দেশটি তার মূল ভূখণ্ড থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে শত শত উপকূলরক্ষী জাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে।