ইদ্দত মামলা

ইমরান খান ও বুশরা বিবির সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির ইদ্দত মামলায় সাত বছরের সাজা স্থগিতের আবেদন ইসলামাবাদের একটি জেলা ও দায়রা আদালত খারিজ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আফজাল মাজোকা এই রায় ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।

সাধারণ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখে বুশরা বিবির সাবেক স্বামী ফারিদ মানেকার অভিযোগের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বুশরা বিবি ইদ্দতকালীন ইমরান খানের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সিনিয়র সিভিল জজ কুদরাতুল্লাহ এই মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ রুপি জরিমানা করে রায় দিয়েছিলেন।

ওই সপ্তাহেই এই দম্পতিকে তোষাখানা মামলায় ১৪ বছরের সাজা এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় ইমরান খান ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়। এপ্রিল মাসে তোষাখানা মামলার সাজার স্থগিতাদেশ মঞ্জুর হয়। চলতি মাসের শুরুতে ইমরান ও কোরেশি এই মাসের শুরুতে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলাতেও খালাস পেয়েছেন। ফলে এখন কেবল ইদ্দত মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবি আদিয়ালা কারাগারে আছেন।

ইদ্দত মামলার সাজার সমালোচনা করে সিভিল সমাজ, নারী অধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা একে নারীদের মর্যাদা ও গোপনীয়তার অধিকারের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেছেন। ইসলামাবাদ ও করাচিতে ব্যক্তি স্বাধীনতায় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে।

আইনজীবীর পক্ষ থেকে বুশরা বিবির জামিন ও সাজার স্থগিতাদেশের একটি আবেদন ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে।

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই রায়কে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছে। দলটির পক্ষ থেকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।