তিন দশক পর বিদেশে দত্তক দেওয়া বন্ধ করলো চীন

চীন ঘোষণা করেছে, তারা আর শিশুদের বিদেশে দত্তক পাঠাবে না। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একটি প্রথার অবসান ঘটাবে। একসময়ে কঠোর এক সন্তান নীতি থেকে উদ্ভূত এই নিয়ম ১৯৯২ সাল থেকে চালু ছিল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

১৯৯২ সালে চীন প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক দত্তক গ্রহণের জন্য নিজের দরজা খুলে দেয়। সেই থেকে ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি চীনা শিশুকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবারগুলো দত্তক নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮২ হাজার শিশু, বেশিরভাগই মেয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে দত্তক নেওয়া হয়েছে বলে জানায় চায়না’স চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল (সিসিআই)।

বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, চীন তার আন্তঃসীমান্ত দত্তক নীতিমালাকে আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। তিনি বলেন, তিন প্রজন্মের মধ্যে রক্তসম্পর্কের সন্তান বা সৎসন্তান দত্তক নেওয়া ছাড়া চীন আর বিদেশে শিশু দত্তক পাঠাবে না।

মাও আরও বলেন, যেসব বিদেশি সরকার এবং পরিবারগুলো চীনা শিশুদের দত্তক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের ভালো উদ্দেশ্য এবং ভালোবাসার জন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তবে যারা ইতোমধ্যে চীনের শিশু দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন, তাদের অবস্থা কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই নীতি পরিবর্তন এমন সময়ে আসছে, যখন চীনের নীতিনির্ধারকরা তরুণ দম্পতিদের বিয়ে ও সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। চীনের জনসংখ্যা টানা দুই বছর ধরে কমছে এবং দেশটি বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারগুলোর একটি নিয়ে চিন্তিত।

১৯৭৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চীন কঠোরভাবে এক সন্তান নীতি প্রয়োগ করেছিল জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য। এই নীতির কারণে অনেক পরিবার ছেলে সন্তান রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং মেয়ে সন্তানদের দত্তক দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছিল।

চীনের এই সিদ্ধান্ত নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর এসেছে। ডাচরা মে মাসে তাদের নাগরিকদের বিদেশি শিশু দত্তক নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডেনমার্কেও বিদেশ থেকে শিশু দত্তক নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, কারণ তাদের একমাত্র দত্তক সংস্থা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।