রাশিয়াকে ‘ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে’ ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) এমন দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামির কিয়েভ সফরের আগে লন্ডনে একটি সংবাদ সম্মেলনে করেছেন ব্লিঙ্কেন। এসময় তিনি জানান, রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করায় সংঘাত ‘নাটকীয়ভাবে’ বাড়বে বলেও ইরানকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘রাশিয়া এখন ব্যালিস্টিক এই ক্ষেপণাস্ত্রের চালান হাতে পেয়েছে। সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেগুলো ইউক্রেনে ব্যবহার করবে।’

ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী সময়ে ৯টি রুশ পতাকাবাহী জাহাজ চিহ্নিত করেছে, যেগুলো ইরান থেকে রাশিয়ায় অস্ত্র পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। সেগুলো ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার অধীনে ‘অবরুদ্ধ সম্পত্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বিভাগটি জানিয়েছে, তারা আগে অনুমোদিত এয়ারলাইন ইরান এয়ারের পাশাপাশি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার সঙ্গে জড়িত কোম্পানি ও ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।

ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ইরান তার এফএটিএইচ-৩৬০ ক্লোজ-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে কয়েক ডজন রুশ সামরিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, য্গেুলোর পাল্লা সর্বোচ্চ ১২১ কিলোমিটার (৭৫ মাইল)।

গত মাসে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এফএটিএইচ-৩৬০ এবং আরেকটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ডিসেম্বরে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে, রাশিয়াকে ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান, যেগুলো ইউক্রেনে ব্যবহার করেছে রুশ সেনারা। তবে রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, ইসরায়েলের প্রতি পশ্চিমা সামরিক সমর্থনের বিষয়টি গোপন করার জন্য এ ধরনের প্রতিবেদনগুলোকে ‘কুৎসা’ হিসেবে দেখে ইরান।

যদিও সোমবার এ দাবি খারিজ করে দিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তবে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে সংবেদনশীল’ অঞ্চলগুলোতে ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছিল রাশিয়া।