মারা গেছেন সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি

ভারতের প্রবীণ বামপন্থি নেতা ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৯ আগস্ট তাকে এইমসের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

এইমসের বিবৃতিতে জানানো হয়, আজ বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণার জন্য এইমসকে দান করা হয়েছে। তার মরদেহ এখন দুই দিন এইমসেই থাকবে, এরপর সিপিএম-এর সদর দফতর একে জি ভবনে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে সহকর্মী ও অনুরাগীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। পরে মরদেহ আবার এইমসে ফিরিয়ে আনা হবে।

সীতারাম ইয়েচুরির স্ত্রী ও প্রবীণ সাংবাদিক সীমানা চিশতি, মেয়ে অখিলা ও ছেলে দানিশ রয়েছেন। ২০২১ সালে তার বড় ছেলে আশীষ ইয়েচুরি কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সিপিএমের-এর পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দেওয়া ইয়েচুরি ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ছিলেন।

দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) সাবেক শিক্ষার্থী ইয়েচুরি তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে এবং ১৯৭৫ সালে সিপিএমে যোগ দেন। ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালে জরুরি অবস্থা জারি হলে তিনি গ্রেফতার হন। তখন তিনি জেএনইউতে অর্থনীতিতে পিএইচডি করছিলেন, যা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

১৯৯২ সালে তিনি পলিটব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৪ সালে ইউপিএ সরকারের শাসন জোট গঠনের ক্ষেত্রেও তার বড় অবদান ছিল। তিনি বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া ব্লক’-এর অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন।

সিপিএম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আমাদের প্রিয় কমরেড সীতারাম ইয়েচুরি আজ এইমসে মারা গেছেন। কমরেড ইয়েচুরিকে লাল সালাম!

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব।