পশ্চিম ইন্দোনেশিয়া উপকূলে ১১৬ রোহিঙ্গা ভিড়েছেন। শনিবার (৩০ নভেম্বর) আচেহ প্রদেশে তাদের বহনকারী নৌকাটি প্রায় ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে উপকূলে ভিড়েন তারা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
সাধারণত অক্টোবর ও এপ্রিলে সমুদ্র যখন শান্ত থাকে তখন নির্যাতিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ড বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যায়।
গত মাসে আচেহ ও উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে নৌকায় করে প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গা এসেছে। পূর্ব আচেহ আঞ্চলিক সরকারের একজন কর্মকর্তা শামসুল বাহরির বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা অন্তরাকে জানিয়েছে, শনিবার যেসব রোহিঙ্গারা অবতরণ করেছিল তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। তাদের নৌকা সমস্যায় পড়লে সেটি তীরে নিয়ে আসা হয়।
শামসুল বলেন, ‘জেলেরা তাদের উদ্ধার করেছে। কেননা, তারা যে নৌকাটিতে ছিল সেটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ডুবে গেছে।’
ইউএনএইচসিআরের একজন কর্মকর্তা ফয়সাল রহমান বলেন, পূর্ব আচেহের বিরাম বেয়ুন জেলায় মোট ১১৬ জন শরণার্থী উপকূলে এসেছে।
বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এটিকে ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ মানবিক শরণার্থী শিবির’ বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিদেশি হিসেবে গণ্য করে এবং সেখানে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত ও নির্যাতন করা হয়।
ইউএনএইচসিআরের তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর ২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়ায় এসেছে যা এর আগের চার বছরের মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি।
জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ নয় ইন্দোনেশিয়া। দেশটি বলেছে, তাদের শরণার্থীদের স্থান দেওয়ার ক্ষমতা নেই।