স্বর্ণের বদলে খাদ্য

ভারতীয় রফতানি নিষেধাজ্ঞায় চাঙ্গা হচ্ছে চোরাকারবার

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি চেকপয়েন্টে তল্লাশি চলছে। স্বর্ণ, মাদক, চিনি, চাল ও পেঁয়াজসহ নিষিদ্ধ পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশি করছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) শিলং শহরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আগস্ট মাসে আমরা এমন কিছু চোরাকারবারিকে ধরেছি যারা গাড়িতে বালির নিচে চিনি লুকিয়ে পাচার করছিল।

২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে ভারতীয় রফতানি নিয়ন্ত্রণের ফলে বাংলাদেশে খাদ্যদ্রব্যের দামে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হওয়ায় চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও খাদ্যের বিনিময় বেড়েছে। এতে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের সরকার কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে।

চোরাকারবারের বিস্তার

ভারতের রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে খাদ্যের উচ্চমূল্য ও চোরাবাজারে স্বর্ণের ব্যবহার স্বর্ণ-খাদ্য বিনিময় বাণিজ্যকে উৎসাহিত করছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ভোক্তা দেশ ভারত গত জুলাই মাসে স্বর্ণের আমদানি শুল্ক কমালেও এই চোরাচালান থেমে নেই।

বাংলাদেশের খাদ্যদ্রব্য আমদানি কমানোর নীতি ও স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও ব্যাহত হচ্ছে এই অবৈধ বাণিজ্যের ফলে।

বিএসএফ কর্মকর্তারা জানান, অক্টোবর মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৪ কেজি ৭০০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। একটি মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টারে লুকানো এই স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৩৫.১ মিলিয়ন রুপি। পাচারকারীকে এই স্বর্ণ পরিবহনের জন্য মাত্র ১০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল।

আকর্ষণীয় মুনাফা

২০২২ সালে ভারত খাদ্যপণ্যের রফতানি সীমিত করতে শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে গম, চিনি, চাল ও পেঁয়াজ। এদিকে স্বর্ণের মূল্য ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে খাদ্যের তুলনায় স্বর্ণের বিনিময় লাভজনক হয়ে উঠেছে।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কলকাতার এক খাদ্য ব্যবসায়ী বলেন, ভারতীয় রফতানি নিষেধাজ্ঞা যত কঠোর হয়েছে, ততই চোরাচালানের পরিমাণ বেড়েছে।

সরকারি হিসাবে, ২০২৩ সালে ২০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যপণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)-এর মতে, ২০২৩ সালে ভারতে চোরাই পথে স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫৬ মেট্রিক টন, যার মূল্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। এর এক-তৃতীয়াংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব

ভারতীয় রফতানি নিষেধাজ্ঞার পর বাংলাদেশে চিনির আমদানি ২৫ শতাংশ কমে ১.৩৮৬ মিলিয়ন মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে প্রায় সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন চিনি চোরাচালানের মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছে, যার মূল্য পরিশোধ হয়েছে স্বর্ণের মাধ্যমে।

বিএসএফের প্রাণঘাতী নীতি পরিহারের ফলে চোরাকারবারিদের ভয় কমেছে। বিপরীতে, পাকিস্তান সীমান্তে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

ভারতের স্বর্ণ শোধনাগার অ্যাসোসিয়েশনের সচিব জেমস জোসে বলেন, চোরাচালান বন্ধ করা না গেলে বৈধ ব্যবসায় ক্ষতি হবে।

সূত্র: রয়টার্স