মালয়েশিয়ার কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক নতুন করে একটি আইনি আবেদন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) করা ওই আবেদনে তিনি তার বাকি কারাদণ্ড ঘরে বন্দি অবস্থায় কাটাতে চেয়েছেন। তবে আদালতের কার্যক্রম নতুন প্রমাণ পর্যালোচনার জন্য প্রসিকিউটরদের সময় দেওয়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
নাজিব জুলাই মাসে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করছেন। কারণ নিম্ন আদালত তার বিচারিক পুনর্বিবেচনার অনুরোধ খারিজ করেছিল। ওই অনুরোধে তিনি সরকারের কাছে প্রমাণিত ও বাস্তবায়নযোগ্য রাজকীয় আদেশের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার আবেদন করেছিলেন যা তাকে তার বাকি শাস্তি বাড়িতে কাটানোর অধিকার দেবে।
নাজিব দাবি করেন, মালয়েশিয়ার সাবেক রাজা এবং ক্ষমা বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি ‘অতিরিক্ত আদেশ’ প্রকাশ করা হয়েছিল, যা তার দুর্নীতি মামলায় ১২ বছরের কারাদণ্ড অর্ধেক করে ৬ বছরে নামিয়ে আনে।
এই নথির অস্তিত্ব এখনও অস্পষ্ট। সাবেক রাজা আল-সুলতান আব্দুল্লাহও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। মালয়েশিয়ার অনন্য রাজতন্ত্র ব্যবস্থায় দেশের নয়জন সুলতান পালাক্রমে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর রাজা হন। রাজা ক্ষমা বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন। জানুয়ারিতে এই রাজার মেয়াদ শেষ হবে।
নাজিবের আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আব্দুল্লাহ জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে মঙ্গলবার একটি হলফনামা দাখিল করেছেন। তাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি পাহাং রাজ্যের রাজপরিবার থেকে ওই অতিরিক্ত আদেশের কপি পেয়েছেন। সুরক্ষামূলক আদেশের কারণে মুহাম্মদ শাফি নথির বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, নথিটি নিশ্চিত করেছে যে নাজিবকে ঘরে বন্দি অবস্থায় শাস্তি কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের শুনানির পর সাংবাদিকদের শাফি বলেন, নতুন প্রমাণটি এই নথির অস্তিত্ব নিশ্চিত করার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আপিল আদালত প্রসিকিউটরদের হলফনামা পর্যালোচনা করার জন্য সময় দিতে কার্যক্রম স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে।
ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়ার দুই বছর পর ২০২২ সালে কারাগারে যান নাজিব।
গত মাসে সরকার জানিয়েছে, আগামী বছরে এমন একটি আইন প্রবর্তন করা হবে যা নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য ঘরে বন্দিত্বের অনুমতি দেবে। তবে এটি নাজিব বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য রাজনীতিবিদদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয় বলে সরকার দাবি করেছে।