দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। সামরিক আইন জারি করে পার্লামেন্টে চাপের মুখে তা প্রত্যাহারের দুই দিনের মাথায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি তীব্রতর হয়েছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টে ইউনের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়েছে। এ সপ্তাহের শেষের দিকে অভিশংসনের বিষয়ে ভোটাভুটি হতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইউন যদি পদত্যাগ করেন বা অভিশংসিত হন, তাহলে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু দায়িত্ব নেবেন। তবে, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দেশটিকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে আকস্মিক এক টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইউন দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করেন। তিনি প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত বলে অভিযুক্ত করেন।
ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীকে জাতীয় সংসদ ভবন অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন এবং ১৯০ সদস্যের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সামরিক আইন প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এরপর সাংবিধানিক আদালতের নয়জন বিচারকের মধ্যে অন্তত ছয়জনের পক্ষে রায় দিতে হবে। অভিশংসন ব্যর্থ হলেও বিরোধী দল পুনরায় একই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।
সংসদে বিরোধী দলগুলোর যৌথ আসন সংখ্যা ১৯২। অভিশংসন সফল করতে তাদের ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টির অন্তত আটজন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলে সাংবিধানিক আদালতের রায় ঘোষণার আগে ইউন সাময়িকভাবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হারাবেন।
ইউনের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন?
অভিশংসন কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। হান একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট রোহ মু-হিউনের অধীনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা লি জে-মিয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।
লি একজন মানবাধিকার ও শ্রম আইনজীবী। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেওংনাম শহরের মেয়র এবং ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গিয়ংগি প্রদেশের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ বছরের জানুয়ারিতে লি একটি ছুরিকাঘাত থেকে বেঁচে যান। তবে ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় দুর্নীতির অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয় এবং তিনি এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড পেয়েছেন। এই রায় চ্যালেঞ্জ করে আপিল করলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।