নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রানজিশন শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন তাইওয়ানের সরকারের দুই সিনিয়র সদস্য। আগত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টায় তাদের এই সফর। পাঁচটি সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-সচিব-জেনারেল লিন ফেই-ফ্যান ও হু সু-চিয়েন এবং তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী চলতি সপ্তাহে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন অঞ্চলে সফর করেছেন।
তবে মার্কিন পক্ষ থেকে কারা মিটিং বা এজেন্ডায় যোগ দেবেন রয়টার্স তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
ওয়াশিংটনে তাইওয়ানের ডি ফ্যাক্টো দূতাবাস, চীনের দূতাবাস ও ট্রাম্প ট্রানজিশন শিবির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
লিন ও হুসের এই সফরের খবরটি এমন সময় এলো যখন তাইওয়ান প্রণালির কাছাকাছি চীনের সামরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটিকে তাইওয়ান আগত ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন মিত্রদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ সেট করতে বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকগুলো ট্রাম্পের ট্রানজিশন শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছিল। তবে তাইপে ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে যে কোনও আলোচনার বিষয়ে বেইজিংয়ের সংবেদনশীলতার কারণে এই বৈঠকগুলোতে ট্রাম্পের আগত প্রশাসনে শীর্ষ পদের জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
দ্বিতীয় সূত্রটি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনে ‘মধ্য-স্তরের রাজনৈতিক অবস্থানে বসতে পারে এমন রিপাবলিকানদের’ সঙ্গে বৈঠকগুলো হয়েছে।
তৃতীয় সূত্র বলেছে, লিন ও হু ট্রাম্প ট্রানজিশন শিবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন এটি বলা ‘নিরাপদ’।
চতুর্থ সূত্র বলেছে, ট্রাম্পের বৃত্তের ব্যক্তিবর্গসহ ‘পুরনো বন্ধুদের’ সঙ্গে দেখা করার জন্য এই ধরনের স্তরের প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রে সফর বিরল নয়।
তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। স্বায়ত্তশাসিত এই দেশটিকে নিজ ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে চীন। তবে তাইওয়ান বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, শুধু দ্বীপের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।