এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে সোমবার রেকর্ড দরপতন হয়েছে। এই পতনের মাত্রা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারগুলোতে দরপতন হচ্ছে। সাংহাই থেকে টোকিও, সিডনি থেকে হংকং—প্রায় সব বাজারের সূচকই রেকর্ড হারে পতন হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সাংহাই কম্পোজিট সূচক একপর্যায়ে ৮ শতাংশ এরও বেশি নিচে নেমে যায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং ১৩.২২ শতাংশ নিচে বন্ধ হয়েছে, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পতন। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৭.৮ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকরা একে ‘রক্তস্নান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ইউরোপের বাজারগুলোও সোমবার সকালে নিম্নমুখী ছিল, ব্যাংক ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বেশিরভাগ দেশের ওপর ১০ থেকে ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা বৈশ্বিক বাজারকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।
এশিয়ার রফতানি নির্ভর অর্থনীতিগুলো মার্কিন বাজারের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ধনী মিত্র দেশগুলো ২৬ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো ৪৬ শতাংশ শুল্ক মোকাবিলা করতে যাচ্ছে। ট্রাম্প ভিয়েতনামকে ‘সবচেয়ে বড় অপরাধী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
কম্বোডিয়ার (৪৯ শতাংশ), থাইল্যান্ডের (৩৬ শতাংশ) ওপরও উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনের পণ্যের ওপর মোট ৫৪ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। সিঙ্গাপুর, নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর ইতোমধ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
ভ্যাঙ্গার্ডের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান অর্থনীতিবিদ কিয়ান ওয়াং বলেছেন, এশিয়াই মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাচ্ছে। আলোচনার কিছু সুযোগ থাকলেও, উচ্চ শুল্কের নতুন এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
এদিকে, মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা বা মন্থরগতির আশঙ্কায় এশিয়ার বাজারগুলো আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা ৪৫ শতাংশ। জেপি মরগ্যানের মতে, এই শঙ্কা ৬০ শতাংশ।
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এ ঘোষণা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ থেকে বছরে ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্প বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছেন, যা দেশটির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
চীনও পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেছে, যা শুক্রবার বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ধস ত্বরান্বিত করেছে। মার্কিন শেয়ারবাজার সূচকগুলো ৫ শতাংশের বেশি নিচে নেমেছে, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ। ইউরোপের বাজারগুলোর অবস্থাও একই রকম—জার্মানি ও ফ্রান্সের সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন হয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ধস এখনও চলতে পারে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের ফটসে রাসেলের জুলিয়া লি বলেছেন, শুল্ক বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দার আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কারণে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার ইতোমধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্য হারিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার অর্থনীতিগুলোই এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।