নির্বাচনে বড় ধাক্কার পরও পদত্যাগ করছেন না জাপানের প্রধানমন্ত্রী

জাপানে ক্ষমতাসীন জোট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা জানিয়েছেন, তার পদত্যাগের কোনও পরিকল্পনা নেই। রবিবার (২০ জুলাই) ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ইশিবা বলেন, তিনি ‘গভীরভাবে’ এই ‘কঠিন ফলাফল’ মেনে নিচ্ছেন। তবে তার মনোযোগ এখন বাণিজ্য আলোচনার ওপর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

উচ্চকক্ষে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জোটের প্রয়োজন ছিল ৫০টি আসন। কিন্তু তারা পেয়েছে ৪৭টি। প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ২২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে।

উচ্চকক্ষের অর্ধেক আসনে রবিবার ভোট হয়েছে এবং নির্বাচিত সদস্যরা ছয় বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

গত বছর জাপানের অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এই পরাজয় ক্ষমতাসীন জোটের প্রভাব আরও ক্ষয় করবে।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো যখন উদীয়মান মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের হুমকি নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং তাদের ছোট জোটসঙ্গী কোমেইতো’র ওপর জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জাপান স্টাডিজের প্রভাষক জেফ্রি হল বিবিসিকে বলেন, ডানপন্থি দলগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়ায় এলডিপির রক্ষণশীল ভোটব্যাংকে ভাঙন ধরেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইশিবাকে অনেক এলডিপি সমর্থক যথেষ্ট রক্ষণশীল মনে করেন না। তারা মনে করেন, ইতিহাস নিয়ে তার জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নেই। চীনের প্রতি তার মনোভাব শিনজো আবের মতো দৃঢ় নয়।

শিনজো আবে এক সময় এলডিপির নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী। আবে ২০০৬-২০০৭ এবং পরে ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।

এই ফলাফল ইশিবার প্রতি ভোটারদের হতাশা তুলে ধরেছে। তিনি অর্থনৈতিক মন্দা, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা মোকাবেলায় জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।

কারণ অনেকেই মূল্যস্ফীতিতে, বিশেষ করে চালের দামে অসন্তুষ্ট, সেই সঙ্গে এলডিপির সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতেও বিরক্ত।

এর আগে জাপানে তিনজন এলডিপি প্রধানমন্ত্রী উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিলেন। তারা দু'মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেন। বিশ্লেষকরা আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এ ধরনের বড় পরাজয় ইশিবার ক্ষেত্রেও একই রকম ফল বয়ে আনতে পারে।

এটি সম্ভাব্যভাবে নেতৃত্বের দৌড়ে অন্যান্য এলডিপি নেতাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। যেমন গতবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে ইশিবার পর দ্বিতীয় হওয়া সানায়ে তাকাইচি, সাবেক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী তাকায়ুকি কোবায়াশি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির পুত্র শিনজিরো কোইজুমি।

তবে যেকোনও নেতৃত্ব পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশটির স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে।

এদিকে সোমবার টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জ একটি জাতীয় ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাশিত হওয়ায় ইয়েন অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে।