চীন সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি: প্রতিবেদন

চীন সীমান্তের কাছে গোপনে একটি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি নির্মাণ করেছে উত্তর কোরিয়া। সেখানেই দেশটির নেতা কিম জং উনের আধুনিক কৌশলগত অস্ত্র মজুদ রাখা হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উত্তর পিয়ংগান প্রদেশের সিনপুং এলাকায় নির্মিত এ ঘাঁটি চীন সীমান্ত থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে ছয় থেকে ৯টি পারমাণবিক আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) এবং মোবাইল লঞ্চার রাখা আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি থেকে বের করে বিশেষ ওয়ারহেড সংরক্ষণ ও পরিবহন ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং আগে থেকে নির্ধারিত স্থানগুলো থেকে নিক্ষেপ করা হবে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘাঁটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে। ২০১৪ সালের মধ্যে এটি প্রায় পুরোপুরি কার্যকর হয়। এরপর থেকে কমপ্লেক্সটি নিয়মিত সম্প্রসারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এটি প্রকাশ পাওয়ায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকির মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়েছে। সিএসআইএস বলছে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার অনেকের ধারণার তুলনায় বড় এবং টিকে থাকার ক্ষমতাও বেশি। দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়ে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বপ্রস্তুত হামলার বিকল্পগুলোও জটিল করে তুলছে।

চীন সীমান্তের কাছে অবস্থান করায় ঘাঁটিটি সামরিক আক্রমণ থেকে বাড়তি সুরক্ষায় রয়েছে। এতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের জন্য ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে গত সপ্তাহেই কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির দ্রুত সম্প্রসারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এটিকে উত্তর কোরিয়া যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে বৈঠকের পরও কিমকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়। এরপর উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিম বলেছিলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষার একমাত্র উপায় হচ্ছে শত্রুদের ভীত করা। আর এই সক্ষমতা বাস্তব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ