উত্তর কোরিয়ার নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়া নতুন দুটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। রবিবার (২৪ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিম জং উন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করেছেন। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শীর্ষ বৈঠকের আগে, এই পরীক্ষা চালানো হলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, এই অস্ত্রগুলোর রয়েছে ‘উন্নত যুদ্ধক্ষমতা’। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ‘অনন্য প্রযুক্তি’। তবে অস্ত্রগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

কেসিএনএ বলেছে, শনিবার পরিচালিত এই পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুই ধরনের প্রক্ষেপণের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত।

মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার সেনারা সাময়িকভাবে অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) অতিক্রম করলে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সতর্কতামূলক গুলি চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘ কমান্ড জানিয়েছে, প্রায় ৩০ জন উত্তর কোরিয়ার সেনা উত্তর ও দক্ষিণের মাঝে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত সীমান্ত অতিক্রম করে।

পিয়ংইয়ং এর জবাবে সিউলকে ‘ইচ্ছাকৃত উসকানি’ দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে।

গত সোমবার থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ব্যাপক যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে কিম যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘সবচেয়ে শত্রুতাপূর্ণ ও মোকাবিলামূলক’ বলে আখ্যা দেন।

নতুন নির্বাচিত দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণায় আন্তঃকোরীয় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এরপর কিমের বোন লি সরকারের পুনর্মিলনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছিল যে তারা একটি নতুন মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যাতে হাইপারসনিক ওয়ারহেড সংযুক্ত ছিল এবং যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্ভরযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে।

জ্যেষ্ঠ দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে সমর্থন করতে সেনা পাঠানোর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি পাচ্ছে।

তবে সর্বশেষ উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রে রাশিয়ার কোনও প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া বিভক্ত। তারা কোনও শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেনি এবং তাই প্রযুক্তিগতভাবে এখনও যুদ্ধে রয়েছে। যদিও বহু বছর ধরে কোনও পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর গুলি চালায়নি।