দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১১০০ ছাড়ালো

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে টানা বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা সোমবার ১ হাজার ১০০ জন ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ায় উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার পুরো দ্বীপজুড়ে এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা, দক্ষিণ থাইল্যান্ড ও উত্তর মালয়েশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারি বর্ষণ হয়। বর্তমানে এসব অঞ্চলে বর্ষাকাল চললেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি আরও তীব্র হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

টানা বৃষ্টিতে বহু মানুষেরা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে উদ্ধারকারী নৌকা বা হেলিকপ্টারের অপেক্ষায় ছিলেন। বহু গ্রাম পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

উত্তর সুমাত্রায় সোমবার পৌঁছে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আশা করি কেটে গেছে।

তিনি জানান, সরকারের এখন অগ্রাধিকার হলো বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। দেশটিতে অন্তত ৫৯৩ জন নিহত এবং প্রায় ৪৭০ জন এখনও নিখোঁজ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য চাপ বাড়ছে প্রেসিডেন্টের ওপর। ২০১৮ সালের ভূমিকম্প ও সুনামির পর এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

সরকার তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল জাহাজ দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। সড়কপথ বিচ্ছিন্ন থাকায় নৌপথেই অধিকাংশ সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত ৩৫৫ জন মারা গেছেন এবং ৩৬৬ জন এখনও নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার দুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছে।

কলম্বোর বন্যার পানি সোমবার সকালে চূড়ায় পৌঁছায়। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় পানি নামতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিছু দোকান ও অফিস ইতোমধ্যে খুলতে শুরু করেছে।

ঐতিহাসিক এই দুর্যোগকে দেশের সবচেয়ে বড় ও চ্যালেঞ্জিং প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামির পর এটিই সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি।

দক্ষিণ থাইল্যান্ডে অন্তত ১৭৬ জন মারা গেছেন। গত এক দশকে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্যা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার পেরলিস প্রদেশে বন্যায় মারা গেছেন আরও দুজন।

পুরো অঞ্চলে বিরল এক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় এবং বর্ষার মিলিত প্রভাবে এ বিপর্যয় তীব্র হয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।