নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

চীনে গোপন তথ্যসহ মোবাইল হারালেন জাপানের পারমাণবিক সংস্থার কর্মী

চীনে ব্যক্তিগত সফরের সময় জাপানের পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থা নিউক্লিয়ার রেগুলশন অথোরিটির (এনআরএ) এক কর্মী সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন হারিয়েছেন। ফোনটিতে সংবেদনশীল তথ্য থাকায় জাপানের পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।

জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োডো নিউজ জানায়, ফোনটিতে এনআরএ’র পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত কর্মীদের গোপন যোগাযোগের তথ্য ছিল। তবে এসব তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংস্থাটি এখনও নিশ্চিত করেনি।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩ নভেম্বর, সাংহাই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময়। উক্ত কর্মী তিন দিন পর বুঝতে পারেন যে, ফোনটি নিখোঁজ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে খোঁজ করেও তিনি ফোনটি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। এরপর এনআরএ তাদের কর্মীদের বিদেশ সফরে কাজের ফোন সঙ্গে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

কিয়োডো নিউজ জানায়, সংশ্লিষ্ট বিভাগটি পারমাণবিক উপাদান চুরি বা সন্ত্রাসী হামলার মতো হুমকি থেকে সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। এনআরএ ইতোমধ্যে জাপানের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কিছু কর্মীকে এসব স্মার্টফোন দেওয়া হয়।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা জাপানের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। ভূমিকম্প ও সুনামিজনিত দুর্ঘটনার পর দেশটির সব রিয়্যাক্টর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং নিরাপত্তা তদারকির জন্য এনআরএ গঠন করা হয়।

জাপানের পারমাণবিক খাতে নিরাপত্তা ত্রুটি নতুন নয়। ২০২৩ সালে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক কর্মীর গাড়ির ছাদের ওপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিখোঁজ হয়। আরেক কর্মীর বিরুদ্ধে গোপন নথি অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ, মধ্য জাপানের পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চুবু ইলেকট্রিক পাওয়ার স্বীকার করে যে নিরাপত্তা যাচাইয়ের তথ্য বাছাই করে উপস্থাপন করা হতে পারে, যার জেরে এনআরএ একটি রিয়্যাক্টর পর্যালোচনা স্থগিত করেছে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনার মাধ্যমে জাপানের পারমাণবিক তদারকিতে দীর্ঘদিনের দুর্বলতাগুলো আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রিয়্যাক্টর পুনরায় চালুর প্রস্তুতির মধ্যে এমন নিরাপত্তা ঘাটতির ফলে দেশটির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।