আট বছরের দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দেশ দুটির মধ্যে তৈরি হওয়া ‘নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বকে’ স্বাগত জানিয়ে কার্নি বলেছেন, বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতেই এই উদ্যোগ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন মার্ক কার্নি। সেখানে তিনি বলেন, অতীতের সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলোকে ভিত্তি করে আমরা নতুন এক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি, যা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সফরকালে কানাডা ও চীনের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় কানাডা চীন থেকে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শুল্ক হারে ৪৯ হাজার বৈদ্যুতিক যান (ইভি) আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি জানিয়েছেন, কৃষি, জ্বালানি ও অর্থায়ন, এই তিনটি খাতে তাৎক্ষণিক অগ্রগতির বড় সুযোগ রয়েছে।
মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডিয়ান পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করার পর থেকেই অটোয়া তার প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানাডার মোট পণ্যের ৭৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়। কার্নি ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাদে অন্য দেশগুলোতে রফতানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
বর্তমানে চীনের বাজারে কানাডার রফতানির হার ৪ শতাংশের নিচে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের মাত্র ২ শতাংশ গত বছর চীনে গেছে। এই রফতানি বাড়াতেই কার্নির এই কৌশলগত মোড়।
২০১৮ সালে হুয়াওয়ে-এর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুকে মার্কিন পরোয়ানায় কানাডায় গ্রেফতারের পর দুই দেশের সম্পর্কে ধস নামে। চীনও পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে দুই কানাডিয়ান নাগরিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করে। পরবর্তী বছরগুলোতে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়।
তবে গত বছর অক্টোবরে এপেক সম্মেলনের ফাঁকে শি ও কার্নির সাক্ষাতের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। শি জিনপিং কার্নিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গত বছরের বৈঠকটি আমাদের সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছে। চীন-কানাডা সম্পর্কের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়ন উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।
সফরকালে দুই পক্ষই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও খনিজ জ্বালানি খাতে সহযোগিতার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশক ধরে বন্ধ থাকা মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় চালু হলো। এছাড়া বনজ সম্পদ, সংস্কৃতি ও পর্যটন বিষয়েও একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সফরের শেষ দিকে তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।