জ্বালানি সংকটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে ১০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে জাপান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বুধবার থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার মতো প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক আঞ্চলিক ফোরামে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই বড় অঙ্কের সহায়তার কথা জানান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

জাপানি প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ মূলত এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ক্রমবর্ধমান তেলের দামের কারণে উৎপাদন খাত যেন থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করা। এই তহবিলের সাহায্যে তুলনামূলক কম ধনী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে তেল কিনতে পারবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্লাস্টিক থেকে শুরু করে পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের একটি বড় উৎপাদন কেন্দ্র। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে তেলের বাজারে যে ধস নেমেছে, তাতে এই অঞ্চলের কারখানাগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন, এই আর্থিক সহায়তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কারখানাগুলোকে শক্তিশালী করবে।

তিনি বলেন, জাপান কেবল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে ধুঁকতে থাকা দেশগুলোকে তেল সরবরাহ করবে না, বরং এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে মিলে একটি স্থিতিশীল জ্বালানি ও খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করবে।

জাপানের দেওয়া এই সহায়তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় এক বছরের তেল আমদানির খরচের সমান।

জাপানের এই মানবিক সাহায্যের আড়ালে নিজস্ব শিল্প ও সাপ্লাই চেইন রক্ষার স্বার্থও রয়েছে। জাপানি প্রধানমন্ত্রী জানান, জাপানের অনেক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

তাকাইচি সতর্ক করে বলেন, এশিয়ায় জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে জাপান এই চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো সংগ্রহ করতে পারবে না। তাই নাগরিকদের জীবন ও জীবিকা রক্ষার্থেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ন্যাপথা নামক অপরিশোধিত তেলের উপজাতের সংকটের কারণে জাপানি টয়লেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টোটো তাদের প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বাথরুম ইউনিটের নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া পেট্রোলিয়ামজাত চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির চিকিৎসক ও রোগীদের বিভিন্ন সংগঠন।