মালাক্কা প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল আদায় করতে চায় ইন্দোনেশিয়া

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট মালাক্কা প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টি আলোচনায় এনেছেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী। দেশটির কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাকার্তায় এক সিম্পোজিয়ামে ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এ কথা বলেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে পুরবায়া জানান, ইন্দোনেশিয়া এখন আর নিজেদের ‘প্রান্তিক দেশ’ হিসেবে দেখতে চায় না। তিনি বলেন, বিশ্বের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের মতো কৌশলগত রুটে অবস্থিত হওয়ার পরও মালাক্কা প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনও শুল্ক নেওয়া হয় না।

এই প্রস্তাবের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি ইরানের হরমুজ প্রণালির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। ইরানের মতো ইন্দোনেশিয়াও এই শুল্ক থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তবে পুরবায়া স্বীকার করেছেন, এমন নীতি বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। মালাক্কা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিভক্ত। তাই এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমাদের সম্পদ থাকা সত্ত্বেও রক্ষণাত্মক চিন্তা করলে চলবে না, আক্রমণাত্মকভাবে চিন্তা করতে হবে। তবে এটি করতে হলে অবশ্যই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য প্রয়োজন। বর্তমানে এটি কেবল একটি প্রাথমিক ধারণা হিসেবে দেখছে দেশটির সরকার। কোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আঞ্চলিক সমন্বয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান বুধবার সকালে সিএনবিসি-র এক অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালির নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে এবং তারা এটি সীমাবদ্ধ করার কোনও প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে না। তিনি বলেন, এখানে জাহাজ চলাচলের অধিকার সবার আছে, এটি কোনও বিশেষ সুবিধা বা লাইসেন্স নয় যে এর জন্য টোল দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন দ্বারা স্বীকৃত। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া তিনটি দেশই বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং এই নৌপথ উন্মুক্ত রাখা সবার স্বার্থেই জরুরি।

মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত মেরিটাইম উইক ২০২৬-এ একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মালাক্কা প্রণালিতে চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইন এবং একটি নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা মেনে চলতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান তিনি।

সূত্র: সিএনএ