মার্কিন হামলায় ৩ নাবিক নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্রকে যা বললো ভারত

মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পর জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারেরও দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, এসব হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমরা অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংলাপ ও কূটনীতির আহ্বান জানাচ্ছি।

জয়সওয়াল জানান, চলতি সপ্তাহে ভারতীয় নাবিক থাকা তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারের একটি হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। ১৩ এপ্রিল থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। এ সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী আটটি জাহাজ অচল করেছে এবং শতাধিক জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমান উপকূলে সেত্তেবেলো নামের একটি ট্যাংকারে হামলার পর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করা হয়। বুধবার তাকে ডেকে চলমান হামলা নিয়ে ভারতের ‘গভীর উদ্বেগের’ কথা জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা বারবার অমান্য করায় সেত্তেবেলো জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে  নিখুঁত হামরা চালানো হয়। তাদের দাবি, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহনের মাধ্যমে চলমান অবরোধ ভঙ্গ করছিল।

তবে জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইওএস মেরিন এফজেডই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের বা ইরানি তেলের সঙ্গে সেত্তেবেলোর কোনও সম্পর্ক নেই এবং ঘটনাটির স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক তদন্ত হওয়া উচিত।

হামলার পর সেত্তেবেলো থেকে বিপদসংকেত পেয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে ওমানের নৌবাহিনী। তারা ২১ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করে। নিহত নাবিকদের একজন শিবানন্দ চৌরাসিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় নয় মাস আগে তিনি সমুদ্রে কাজ করতে গিয়েছিলেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে সবকিছু ঠিক আছে।

আগামী সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটলো।

সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত আটটি নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজ অচল করা হয়েছে। ১৩৪টি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে এবং মানবিক সহায়তাবাহী ৪২টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিক থাকা ম্যারিভেক্স নামের একটি তেলবাহী জাহাজও অচল করে দেয় মার্কিন বাহিনী।

সূত্র: রয়টার্স